গত মৌসুমে দুই দশকেরও বেশি সময়ের প্রতীক্ষা শেষ করে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা ঘরে তুলেছে আর্সেনাল। মিকেল আর্তেতার অধীনে আসা এই সাফল্যকে নতুন যাত্রার সূচনা হিসেবেই দেখছেন ক্লাব কর্তৃপক্ষ। লিগ জয়ের পরেই কোচ জানিয়ে দিয়েছিলেন, এখানে থেমে থাকার কোনো পরিকল্পনা নেই — সামনের দিকেই তাদের লক্ষ্য। সেই দূরদর্শিতারই প্রমাণ মিলল দলবদলের বাজার চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই, যখন ব্রাজিলের মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারাইসকে নিজেদের শিবিরে টেনে নিল গানার্সরা।
নরওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচে পেনাল্টি মিস করে সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন গিমারাইস। ব্রাজিলের বিদায়ের দায় অনেকটাই তার ঘাড়ে চাপানো হয়েছিল। তবে আর্সেনালের অবস্থান কিন্তু এতে বিন্দুমাত্র প্রভাবিত হয়নি। দলবদলের শুরুর আগে যেমন আগ্রহ ছিল, এখনো ঠিক তেমনই আছে। আর্তেতার পরিকল্পনা ছিল ঘরোয়া লিগে নিজেদের শক্তিমত্তা বাড়ানো, আর সেই কাজেই লন্ডনে পাড়ি জমাচ্ছেন এই ব্রাজিলিয়ান।
চারটি মৌসুম ধরে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের হয়ে খেলছেন গিমারাইস। শুরু থেকেই আর্তেতার লক্ষ্য ছিল এমন একটি দল গড়া যাকে প্রিমিয়ার লিগে কেউ হারাতে না পারে। তবে দিন যত যাচ্ছে, সব ফ্রন্টে ভারসাম্য রাখা আর্সেনালের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৩টি ম্যাচ খেলতে হয়েছে দলটিকে। মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে মাঝমাঠের ছন্দপতন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চোটের কারণে দল যখন দিশেহারা, তখন কিনে আনা ক্রিস্টিয়ান নরগার্ডের ওপরও আস্থা রাখতে পারেননি আর্তেতা। ফলে মাত্র সাতটি ম্যাচ খেলেই তার আর্সেনাল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে চলেছে।
দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর মৌসুম সামনে রেখে মাঝমাঠে প্রয়োজন ছিল নতুন প্রাণশক্তি ও সতেজ পায়ের। সেই জায়গাতেই ২৮ বছর বয়সী গিমারাইসকে তুরুপের তাস হিসেবে দেখছেন ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ২০২২ সালে নিউক্যাসলে যোগ দেওয়ার পর থেকে গত চার মৌসুমে চোটের কারণে মাত্র ১৬টি ম্যাচে মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। প্রিমিয়ার লিগে তার মতো ফিট খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়া সত্যিই বিরল। পাশাপাশি, মাঝমাঠের গতি-প্রকৃতি বুঝে নিজের খেলার ধরনও বদলে ফেলতে পারেন তিনি। গত মৌসুমে তার নয় গোলের পাশাপাশি ছিল আটটি অ্যাসিস্ট। এমনকি বিশ্বকাপেও তার ভূমিকা বদলে গেলেও পাঁচ ম্যাচে চারটি অ্যাসিস্ট করে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। পেনাল্টি মিসটি না হলে সেটি তার জন্য আরও স্মরণীয় হয়ে থাকত।
আর্সেনাল ও গিমারাইসের মধ্যে দলবদল নিয়ে আলোচনা খুব দ্রুতই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস সূত্রে জানা গেছে, শর্তসাপেক্ষে ৭৫ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব পাঠিয়েছিল আর্সেনাল। নিউক্যাসল তা প্রত্যাখ্যান করলে শর্তবিহীন ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব দেয় তারা। দুই বছরের চুক্তি বাকি থাকা সত্ত্বেও এই অঙ্কেই তাকে ছাড়তে সম্মত হয় নিউক্যাসল কর্তৃপক্ষ। এই অর্থ দুই বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে আর্সেনালকে।
গিমারাইসের আগমনে মাঝমাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো একাধিক তারকা এখন আর্তেতার কাছে রয়েছে। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড, ডেকলান রাইস, মার্তিন জুবিমেন্দি, এবেরেচি এজে — এই সবার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নিজের জায়গা নিশ্চিত করতে হবে গিমারাইসকে। তবে সামনে যখন প্রায় ৭০ ম্যাচের মৌসুম এবং প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় লক্ষ্য, তখন এই ধরনের একজন ফিট মিডফিল্ডারের অন্তর্ভুক্তি আর্সেনালের জন্য আশীর্বাদ বললেই চলে। তাকে কাজে লাগাতে পারলে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিয়োগ নগণ্য বলেই মনে হবে।




