দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক নয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ-ইন) চেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তৎপর হয়ে দুই নারীসহ তিনজনকে আটক করে পুনরায় ভারতে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হয়। বাকি ছয়জন ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বিরামপুর উপজেলার ২ নম্বর কাটলা ইউনিয়নের খিয়ারমামুদপুর সীমান্ত এলাকায়, যা ২৯১/২০ এস সীমানা পিলারের নিকটবর্তী। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই গ্রামের ফেরদৌস আলী নামক এক ব্যক্তির বাড়িতে তখন বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ২৯১/২০ এস সীমানা পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ভারত থেকে নয়জন নারী-পুরুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এর মধ্যে তিনজন সরাসরি বিয়েবাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি লক্ষ্য করে দ্রুত বিজিবিকে অবহিত করেন। subsequently, বিজিবির সদস্যরা খিয়ারমামুদপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের বাড়ি থেকে ওই তিনজনকে আটক করেন, যদিও সেই সময় মিজানুর সেখান থেকে পালিয়ে যান।

এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে একটি অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের দাবি, পুশ-ইন করা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে আজিজুল ইসলাম নামের এক যুবককে বিজিবির একজন সদস্য মারধর করেছেন। ওই গ্রামের ইউপি সদস্য শুকুর আলী জানান, আজিজুল ও মিজানুরের সহায়তায় নয়জনের মধ্যে ছয়জন পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। আজিজুলকে মারধর করা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের (বিজিবি-২০) ভাইগড় বিওপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মোস্তাফিজুর রহমান নিশ্চিত করেন যে, দুজন নারী ও একজন পুরুষকে বিএসএফ বাংলাদেশে নিয়ে আসার চেষ্টা করায় তাঁদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেরত পাঠানো ওই তিনজন বর্তমানে সীমানা পিলার থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে ভারতের শ্রীরামপুর গ্রামের একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ জুলাই একই সীমানা পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে গুজরাটের আমেনাবাদ থেকে আসা নয়জন নারীকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বিএসএফ।