মাইক্রোসফটের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সত্যা নাদেলা দীর্ঘ দুই দশকের কর্মজীবন শেষে ২০১৪ সালে শীর্ষ পদে আসীন হন। তবে সম্প্রতি তিনি অতীতের একটি ঘটনার কথা শেয়ার করেছেন যা তাকে আজও কষ্ট দেয়। ২০০৮ থেকে ২০০৯ সালের দিকে তৎকালীন চেয়ারম্যান বিল গেটসের ডাকা একটি বৈঠকে নাদেলা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্যারালাল ডেটা ওয়্যারহাউজিং নিয়ে একটি সম্ভাব্য অধিগ্রহণের পর্যালোচনা করা হচ্ছিল। সেই সময় মাইক্রোসফটের সার্চ ইঞ্জিন টিমের নেতৃত্ব দেওয়া নাদেলা মনে করেছিলেন, এই চুক্তিটি স্থাপত্যগত দিক থেকে সম্পূর্ণ ভুল এবং অযৌক্তিক। তবে নিজের সংশয় থাকা সত্ত্বেও তিনি বৈঠকে পুরো সময় নীরব ছিলেন এবং প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেননি।
সাম্প্রতিক এক পডকাস্টে নাদেলা জানান, সেই অভিজ্ঞতা তাকে এখনও তাড়া করে বেড়ায়। তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, কোনো বৈঠকে যদি কেউ ভবিষ্যতের সঠিক পথটি পরিষ্কার দেখতে পান কিন্তু তা প্রকাশ না করেন, তবে সেটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় ক্ষতি। তিনি ওই বৈঠকটিকে সময়ের অপচয় হিসেবে গণ্য করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে তৎকালীন সিইও স্টিভ বলমারের সাথে এক আলাপচারিতা তার নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গিকে বদলে দেয়। বলমার তাকে শিখিয়েছিলেন যে, কর্মীদের কেবল নিজেদের দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক মঙ্গলের কথা ভাবা উচিত এবং একজন 'মালিকের মানসিকতা' (owner mindset) পোষণ করা প্রয়োজন।
নাদেলা মনে করেন, পেশাগত সাফল্য কেবল নির্দিষ্ট কাজ শেষ করা বা দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং যা সঠিক বলে মনে হয়, তার পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস রাখা এবং সহকর্মীদের চ্যালেঞ্জ করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করাই প্রকৃত নেতৃত্ব। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, অন্যদের রক্ষণাত্মক না করে কীভাবে সঠিক ফলাফলের জন্য চাপ সৃষ্টি করা যায়, তা জানা জরুরি। বর্তমানে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের এই বিশাল প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থেকে তিনি এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন যেখানে কর্মীরা নির্ভয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারে, যদিও এটি অর্জনের পথ বেশ চ্যালেঞ্জিং।
কর্মক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করার গুরুত্ব কেবল নাদেলাই নয়, অন্যান্য বড় ব্যবসায়িক নেতারাও স্বীকার করেছেন। নেটফ্লিক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হেস্টিংস মনে করেন, মনে মনে দ্বিমত পোষণ করে চুপ থাকা এক ধরণের অবিশ্বস্ততা। তাই তিনি তার প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজারদের কর্মীদের কাছ থেকে ভিন্নমত খুঁজে বের করতে উৎসাহিত করেন। অন্যদিকে, ব্রিজওয়াটার অ্যাসোসিয়েটসের প্রতিষ্ঠাতা রে ডালিও-র দর্শন হলো— হয় কথা বলুন এবং দায়িত্ব নিন, অথবা প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করুন। তার মতে, ব্যক্তিগতভাবে অভিযোগ না করে খোলাখুলি বিতর্ক ও প্রশ্ন করা সাফল্যের জন্য অপরিহার্য।
পিপসিকো-র সাবেক সিইও ইন্দ্র নুই আরও একটি বাস্তবসম্মত পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, সভার শেষে প্রধান ব্যক্তির উচিত একে একে সবার কাছে জানতে চাওয়া যে তাদের কিছু বলার আছে কি না। এর ফলে যারা সাধারণত কথা বলেন না বা যাদের কথা অন্যদের দ্বারা চাপা পড়ে যায়, তারা যেন তাদের মতামত জানানোর সুযোগ পায়।




