আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন আনছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির সরকার এখন ৪ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর আগে ২০২৭ সালের মধ্যে ৩ লাখ শিক্ষার্থী নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত অর্থাৎ ২০২৫ সালের মাঝামাঝিতেই সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ১৪ হাজারে পৌঁছেছে।
শিক্ষার্থীদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করতে সরকার শিক্ষার্থী ভিসার বিদ্যমান নিয়মে বিশেষ পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাবিত এই নতুন কাঠামোর মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো কোরীয় ভাষায় দক্ষতা। যারা কোরীয় ভাষায় মধ্যম পর্যায়ের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারবেন, তাদের জন্য ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হতে পারে। এই বিশেষ সুবিধা পেতে শিক্ষার্থীদের কোরীয় ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা (টপিক) অথবা কোরীয় অভিবাসন ও একীভূতকরণ কর্মসূচিতে (কেআইআইপি) চতুর্থ স্তর অর্জন করতে হবে। তবে সরকার সতর্ক করে জানিয়েছে যে, যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে কিংবা যারা পড়াশোনার চেয়ে চাকরির প্রতি বেশি আগ্রহী বলে মনে হবে, তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য অর্থ জমা রাখার শর্ত বহাল থাকতে পারে।
পড়াশোনা শেষ করার পর আন্তর্জাতিক স্নাতকদের জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ রাখা হয়েছে। তাদের ভাষাগত দক্ষতা এবং পেশাগত প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করে এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। এছাড়া, স্নাতক শেষ করার পরও দেশটির সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যে 'কোরিয়ান স্টাডি অ্যালামনাই ভিজিটর ভিসা' নামে একটি নতুন ভিসা চালু করার কথা বিবেচনা করছে প্রশাসন।
তবে এই নতুন নিয়মে ইংরেজি মাধ্যমে পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে, কারণ এখানে কোরীয় ভাষাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তা সত্ত্বেও, যারা কোরীয় ভাষায় দক্ষ নন, তাদের জন্য বিকল্প সুযোগ খোলা রাখা হয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার ৭০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজারেরও বেশি বিভাগে ইংরেজি মাধ্যমে ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে, যা ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক হবে।




