ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি বা ভিআর হেডসেট বলতে সাধারণত চোখ ও মুখ ঢেকে রাখা ভারী কোনো যন্ত্রের কথা মাথায় আসে। তবে এই প্রচলিত ধারণা বদলে দিতে চশমার আদলে একটি নতুন উদ্ভাবন নিয়ে এল মেটা। গত বুধবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত 'মেটা কানেক্ট' সম্মেলনে 'মেটা ভিআর গ্লাসেস' নামের এই বিশেষ চশমাটি প্রদর্শন করা হয়। মেটার দাবি, এটি দেখতে সাধারণ চশমার মতোই এবং এর ওজন মাত্র ১০০ গ্রাম, যা ব্যবহারকারীর দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের অস্বস্তি দূর করবে।

সম্মেলনে মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ জানান, এই নতুন চশমাটির ওজন তাদের পূর্বের মডেল 'মেটা কোয়েস্ট ৩'-এর তুলনায় পাঁচ গুণেরও কম। ওজনে এই অভাবনীয় হ্রাস আনতে মেটা একটি ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে। চশমার ভেতরে কেবল ডিসপ্লে এবং প্রয়োজনীয় সেন্সর রাখা হয়েছে, আর প্রসেসর, ব্যাটারি ও স্টোরেজ রাখা হয়েছে 'পাক' নামের একটি পৃথক ছোট বাক্সে। এই বাক্সটি ব্যবহারকারী চাইলে ক্লিপের মাধ্যমে নিজের পকেট বা ব্যাগে আটকে রাখতে পারবেন।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই চশমাটি অত্যন্ত উন্নত। এতে মাইক্রো-ওএলইডি প্যানেলের ৫কে 'ইনফিনিট ডিসপ্লে' এবং প্যানকেক লেন্স ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে সূক্ষ্ম লেখা বা বিষয়বস্তু অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। প্রতি ডিগ্রি জায়গায় ৩৭টি পিক্সেল থাকায় এর ভিজ্যুয়াল কোয়ালিটি হবে অনন্য। এছাড়া ডলবি ভিশন এবং ডলবি অ্যাটমস স্পেশাল অডিওর সমন্বয়ে ব্যবহারকারীরা ঘরে বসেই সিনেমা হলের মতো বড় পর্দা ও চারপাশ থেকে শব্দ আসার অভিজ্ঞতা পাবেন।

নতুন এই ডিভাইসের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর দুই পাশ খোলা রাখা এবং পাসথ্রু ক্যামেরার সংযুক্তি, যার ফলে ভিআর মোডে থেকেও আশপাশের বাস্তব পরিবেশ দেখা সম্ভব হবে। অপারেটিং সিস্টেমে সরাসরি মেটা এআই যুক্ত থাকায় কোনো আলাদা কন্ট্রোলার ছাড়াই কণ্ঠস্বর, চোখের নড়াচড়া এবং হাতের অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে অ্যাপ পরিচালনা, ভার্চুয়াল ওয়ার্কস্পেস পরিবর্তন কিংবা অনলাইন থেকে তথ্য খোঁজার মতো অফিসের প্রয়োজনীয় কাজগুলোও অনায়াসে করা যাবে এই চশমার মাধ্যমে।

কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন রিয়েলিটি এলিট প্রসেসর দ্বারা চালিত এই চশমাটির ব্যাটারি একবার পূর্ণ চার্জে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা চলবে। ১ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার দামের এই মেটা ভিআর গ্লাসেস আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হবে।