রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সোমবার অনুষ্ঠিত হলো নির্বাচিত গবেষক, উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। শিল্প খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্পভিত্তিক গবেষণা এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের আওতাধীন ‘Skills for Industry Competitiveness and Innovation Program’-এর অধীনে এই আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষকদের যুক্ত করার ক্ষেত্রে এটি দেশের প্রথম সরকারি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে যে ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা বিরাজ করছে, তা কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে; পরবর্তীতে ধীরে ধীরে গতি ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এখন প্রবৃদ্ধির একটি নতুন পর্যায়ের দিকে অগ্রসর হবে।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা যে ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি, তার পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। এ থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি হচ্ছে। আমরা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি।’ তাঁর মতে, অর্থনীতিতে যেসব সংস্কার, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রণোদনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলোর সুফল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে সারা দেশে দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
কর্মসংস্থানের জন্য এই কেন্দ্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সবকিছু মিলিয়ে দেশের অর্থনীতি ইতিবাচক দিকে এগোবে বলে তাঁর প্রত্যাশা প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় বিভিন্ন খাতে উদ্ভাবনী গবেষণার জন্য মোট ১২ জনকে অর্থ ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রত্যেককে ৭০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে আড়াই কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ২৩ কোটি টাকার অর্থসহায়তা বিতরণ করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা শিল্পের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে এই অর্থ কাজে লাগাবেন এবং এক বছরের গবেষণার পর তাঁদের উদ্ভাবনী সমাধান শিল্পে প্রয়োগ করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ বিভাগের সচিব মো. খাইরুজ্জামান মজুমদার। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন। স্বাগত বক্তব্যে ওয়ালিদ হোসেন জানান, শিল্পের উদ্ভাবনী সমাধানের জন্য মোট ১২৩টি প্রকল্প জমা পড়েছিল। সেখান থেকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ১২টি প্রকল্প নির্বাচিত হয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচিত প্রতিটি প্রকল্পের গবেষক আগে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন। পরবর্তীকালে তাঁদের ধারণাপত্রের ভিত্তিতে প্রকল্পগুলো বাছাই করা হয়েছে।
পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আগামী এক বছর গবেষণা পরিচালনা করে সমাধানের পথ দেখাবেন। বাছাইকৃত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ছোট হিমাগার থেকে মাছের খাবার বিতরণের যন্ত্র তৈরির প্রযুক্তি, পাশাপাশি ফেলে দেওয়া সুতা থেকে প্যাকেজিং উপকরণ তৈরির উদ্যোগ ইত্যাদি। এসব উদ্ভাবন শিল্পখাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।




