জীবনের নানা ঘটনা মনে পড়লে অনেকেরই মন খারাপ হয়, কিন্তু কিছু মানুষ আছেন যারা অতীতের কষ্টকে ট্রমা হিসেবে অনুভব করেন না। সম্প্রতি এক আলাপে এক পরিচিত ব্যক্তি জানিয়েছেন, কেন তিনি কোনো ট্রমায় ভোগেন না। তার মতে, ভালো থাকা একটি সচেতন পছন্দ। জীবনের অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণের বাইরে, কিন্তু ঘটনাগুলোকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করলে মনকে শান্ত রাখা যায়। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রতিটি ঘটনার মধ্যে ইতিবাচক দিক খুঁজে নেওয়ার সুযোগ থাকে, আর সেই দিকটি ধরে রাখাই আসল চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, তার সঙ্গে যারা মিশেছেন, তারা প্রায়ই মন্তব্য করেছেন যে তার কাছ থেকে কখনো নেতিবাচক কথা শুনতে পাননি। এটি কোনো ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা নয়, বরং দীর্ঘদিনের অভ্যাসে তার মন ও মস্তিষ্ক ইতিবাচক দিকেই ঝুঁকে থাকে। তবে তিনি স্বীকার করেন, তারও মাঝে মাঝে রাগ বা মন খারাপ হয়। কিন্তু সেসব অনুভূতি যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন।
কয়েক মাস আগে এক পারিবারিক বিষয়ে আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি অস্বস্তিতে পড়েন। সাধারণত এ ধরনের প্রসঙ্গ এড়িয়ে চললেও সেদিন আত্মীয়ের আচরণে তিনি বিরক্ত হন। আত্মীয়টি পরে বুঝতে পেরে আক্ষেপও প্রকাশ করেন। তবে বাসা থেকে বের হওয়ার পর গন্তব্যে পৌঁছানোর ২০ মিনিটের মধ্যেই তিনি সেই খারাপ অনুভূতি ভুলে যান। একইভাবে, কিছুদিন আগে ভাইয়ের সঙ্গে একটি বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে তিনি কিছুটা মনমরা হয়ে পড়েন। তখন তিনি নিজেকে একা করে সমস্যার সমাধান খুঁজতে শুরু করেন। তিনি যুক্তি দেন, যে সমস্যার সমাধান হয়নি, তারও নিশ্চয়ই অন্য কোনো সমাধান আছে। কিছুক্ষণের চিন্তার পর সেই সমাধান খুঁজে পান এবং মেজাজ ঠিক হয়ে যায়।
আরেকটি ঘটনায় তিনি একটি বাইকে করে কমলাপুর রেলস্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন। রাত ১১টার ট্রেন ধরার জন্য তাড়াহুড়ো ছিল, কিন্তু পথে বেশ কয়েকবার অটোরিকশার কারণে বাইক আটকে যায়। বাইক রাইডার রিকশাচালকদের সঙ্গে ঝগড়া করতে উদ্যত হলে তিনি প্রতিবারই তাকে শান্ত করেন। তিনি রাইডারকে বলেন, ঝগড়া করলে নিজেরই মেজাজ খারাপ হবে, অন্যদের বিরক্তিও লাগবে। বরং ঘটনাটি ইগনোর করা ভালো, কারণ কিছুক্ষণ পর তা ভুলে যাওয়া সম্ভব। রাইডার পরে জিজ্ঞাসা করেন, কীভাবে তিনি সবসময় শান্ত থাকেন। উত্তরে তিনি বলেন, রিকশাচালকদের সঙ্গে ঝগড়া করে লাভ নেই, উল্টো নিজের ক্ষতি।
তার মতে, মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ভালো থাকা। এটি সম্ভব হলে ইচ্ছাশক্তি ও পজিটিভ থাকার আগ্রহ থাকলেই হয়। অতীতের ভুল বা কষ্টকে মনে ধরে রাখার বদলে বর্তমানের সুখ খোঁজার দিকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত। তিনি নিজে এই নিয়মে চলেন বলেই জীবনের প্রতিকূলতাকে সহজভাবে মোকাবিলা করতে পারেন।




