সম্প্রতি নিজেদের নতুন ঠিকানায় পা রেখেছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দারি ও দক্ষিণ ভারতের অভিনেতা সিদ্ধার্থ সূর্যনারায়ণ। এই দম্পতির বাসভবনের খোলনলচে দেখতে তার পরপরই সেখানে উপস্থিত হয়েছিল আর্কিটেকচারাল ডাইজেস্ট (এডি) ম্যাগাজিনের প্রতিনিধিদল। চলুন, চেন্নাইয়ে তাঁদের নতুন অ্যাপার্টমেন্টটি ঘুরে দেখা যাক।

সেলিব্রেটি পরিচয়ের বাইরে গিয়ে নিজেদের গৃহে এই তারকা জুটি যেন সম্পূর্ণ অন্য মানুষ। ফটোসেশনের সময় তাঁরা পুরো বাড়িতে খালি পায়ে হেঁটে বেড়িয়েছেন, আর তাতে পাশের বাড়ির সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁদের কোনো পার্থক্য বোঝা যায়নি। চেন্নাইয়ের একটি ভবনের ১৮ তলায় অবস্থিত তাঁদের অ্যাপার্টমেন্টের আয়তন প্রায় চার হাজার বর্গফুট। নিজেদের পছন্দমতো এই বাড়িটি সাজিয়েছেন তাঁরা, এবং তাঁদের রুচি ও পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন ঘর সাজিয়ে দিয়েছেন অভ্যন্তরীণ নকশাবিদ পবিত্র রাজারাম।

বাড়ির সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো অংশ হলো বিশাল জানালাগুলো। সেগুলো দিয়ে বাইরে তাকালে দেখা যায় শহরের পরিচিত ল্যান্ডমার্ক আর দূরের সমুদ্র। দিনের বিভিন্ন সময়ে আলো ও আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাইরের দৃশ্যও বদলে যায়। অদিতি নিজে ঘরের ভেতরে রোদ প্রবেশ করতে খুব ভালোবাসেন। তাই যখন সূর্যের আলো এক ঘর থেকে আরেক ঘরে চলে যায়, তখন তিনিও নিজের অবস্থান বদলে ফেলেন।

অদিতির খালার একটি নির্দেশনা তিনি সবসময় মনে রাখেন—সুন্দর জিনিসগুলো আলমারিতে আটকে রাখা নয়, বরং সেগুলো ব্যবহার করা উচিত। সিদ্ধার্থের কাছে এই বাড়ির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এক ঘরের সঙ্গে অন্য ঘরের সাজসজ্জার ধারাবাহিকতা।

বসার ঘরে সাদা পর্দা বাইরের আলোকে কিছুটা আটকে দিলেও, সেখানে বিলাসবহুল আলো ও আসবাবের প্রতিষ্ঠান তাহের আলিসের কাচের ঝাড়বাতি এবং পিআরডি ব্র্যান্ডের বিশেষ ডিজাইনের কাচের কফি টেবিল ঘরটিকে আলোকিত করে রেখেছে। এই অংশটি বৈচিত্র্যে ভরা—ঐরাবত মোটিফের সোফা, লাক্সারি হোম ডেকোর ব্র্যান্ড নিলায়া অ্যানথোলজির হাত আকৃতির বেতের চেয়ার, রেশমি জামদানি কুশন এবং জয়পুর রাগস ব্র্যান্ডের হাতে তৈরি ‘মনচাহা’ গালিচা—সব মিলিয়ে দারুণ এক সমন্বয়।

বাড়ির একটি প্যাসেজে পাতা হয়েছে ভিনটেজ টার্কিশ রানার গালিচা। সেখানে সেগুন কাঠের পড়ার টেবিলের পাশে রাখা আছে কর্ণাটক থেকে সংগ্রহ করা গরুড় মূর্তি। নীল ক্যানভাসে বর্মি লাক্ষার তৈরি বাক্স, নিলায়া অ্যানথোলজির কাস্ট ব্রাসের প্রদীপ এবং ভিনটেজ জাপানি উডব্লক প্রিন্ট—সবই যেন ঘরের মানুষের রুচির পরিচয় বহন করে।

বাড়ির ওয়ালপেপার, আসবাব, টেক্সটাইল, সোফার কভার এমনকি খুঁটিনাটি সাজসজ্জাতেও ডিজাইনার রাজারামের ছোঁয়া স্পষ্ট। তবে অদিতির চাহিদায় সেটা ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপিত হয়েছে। রাজারাম বলেন, তিনি সাধারণত নীল ও অ্যাকুয়া রং পছন্দ করেন, কিন্তু এখানে অদিতির প্রভাবে তুলনামূলক উষ্ণ শেড বেছে নেওয়া হয়েছে।

বাড়ির একটি শোবার ঘর নীল রঙে রাঙানো, অন্যটি সতেজ সবুজে ঘেরা। খাবার ঘরটি গোলাপি, টিভি রুমটি হলুদ, আর লাউঞ্জটি সেজেছে ডাস্টি রোজ রঙে। প্রতিটি ঘরে আলাদা রঙের প্রাধান্য থাকলেও কোনোটি চোখের আরাম নষ্ট করে না।

আরামদায়ক ছোট ঘরটি সিদ্ধার্থ-অদিতির অফিস হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। পেছনের বইয়ের তাকটি যেন ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা—সেখানে আছে ভিনটেজ ভিনাইল রেকর্ড, ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, সিদ্ধার্থর গুরু কমল হাসানের উপহার দেওয়া হাতে তৈরি ফিল্ম প্রজেক্টর, অদিতির শৈশবের বন্ধুর আঁকা নীল রঙের শিল্পকর্মসহ আরও অনেক কিছু।

নকশা ও প্যাটার্নের প্রতি অদিতি-সিদ্ধার্থের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তাই দেওয়াল, গালিচা, সোফার কভার এমনকি খাটের মাথার অংশেও সেসব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অনেক ওয়ালপেপার ও কাপড়ের নকশা শুধু এই বাড়ির জন্যই বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।