মেজর লিগ বেসবল (MLB) তাদের পরবর্তী যৌথ দরকষাকষি চুক্তির (CBA) অংশ হিসেবে খেলোয়াড়দের চুক্তিবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় এক আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাবনা পেশ করেছে। নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্রি এজেন্ট খেলোয়াড়দের চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সময়সীমা নির্দিষ্ট কিছু উইন্ডোতে সীমাবদ্ধ থাকবে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, উইন্টার মিটিংয়ের প্রথম সোমবার দুপুর ১২টা থেকে শুরু করে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চুক্তি করা যাবে। এরপর ২১ ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সোমবার পর্যন্ত কোনো ফ্রি এজেন্ট স্বাক্ষর বা খেলোয়াড় বিনিময় (trade) করা নিষিদ্ধ থাকবে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সোমবারের পর পুনরায় চুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে ওয়ার্ল্ড সিরিজের পরবর্তী পাঁচ দিন ক্লাব ও খেলোয়াড়দের জন্য অপশনগুলো সক্রিয় বা বাতিল করার সুযোগ থাকবে।

লিগ কর্তৃপক্ষের দাবি, এই সীমিত সময়সীমা প্রবর্তনের মাধ্যমে ক্রীড়া জগতের অন্যান্য জনপ্রিয় খেলাগুলোর মতো একটি উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হবে, যা ভক্তদের আগ্রহ বাড়াবে এবং বিপণন সুযোগ তৈরি করবে। এমএলবি কমিশনার রব ম্যানফ্রেড এর আগে উল্লেখ করেছিলেন যে, অফ-সিজনে খেলাটিকে ভক্তদের সামনে আকর্ষণীয় করে তুলতে এই ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে এবারের প্রস্তাবে একটি বড় পরিবর্তন হলো—এই সীমাবদ্ধতাকে 'স্যালারি ক্যাপ' বা বেতনের সর্বোচ্চ সীমা চালুর শর্তের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। এমএলবি মুখপাত্র গ্লেন ক্যাপলিন জানিয়েছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় স্যালারি ক্যাপ ছাড়া এই পরিবর্তনগুলো প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্যের জন্য ক্ষতিকর এবং অবাস্তব হবে।

তবে এমএলবি প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (MLBPA) অন্তর্বর্তী নির্বাহী পরিচালক ব্রুস মেয়ার এই প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি একে লিগের 'প্রোপাগান্ডা' বলে অভিহিত করে জানান, স্যালারি ক্যাপ এবং কৃত্রিম সময়সীমা খেলোয়াড়দের দরকষাকষির ক্ষমতা কমিয়ে দেবে এবং তাদের সামগ্রিক পারিশ্রমিক হ্রাস করবে। মেয়ারের মতে, এটি নিশ্চিত চুক্তির (guaranteed contracts) সুযোগ কমিয়ে দেবে এবং মৌলিক অধিকারগুলোকে খর্ব করবে। প্রখ্যাত এজেন্ট স্কট বোরাসও এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেছেন, ডেডলাইন বা সময়সীমা নির্ধারণের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো বাজার প্রতিযোগিতা সীমিত করা এবং খেলোয়াড়দের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত করা। অন্যদিকে, জোয়েল উলফের মতো কিছু এজেন্ট জাপানি খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এই ধরনের সিস্টেমের কার্যকারিতা দেখলেও, সাধারণ ফ্রি এজেন্টদের জন্য এর ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বর্তমান যৌথ দরকষাকষি চুক্তি আগামী ১ ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। যদি মালিকপক্ষ এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে নতুন চুক্তিতে একমত হওয়া না যায়, তবে একটি 'লকআউট' পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমনটি হলে উইন্টার মিটিং বাতিল হবে এবং নতুন চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত ধরনের খেলোয়াড় লেনদেন ও চুক্তি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের এমএলবি নিয়মিত সিজন ২৪ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।