সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদনের পর তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, নতুন স্কেল চালু হলে সবার বেতন যে দ্বিগুণ হয়ে যাবে— এমন ধারণা সঠিক নয়। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “অনেকে মনে করছেন, নতুন স্কেল মানেই ১০০ শতাংশ বেতন বেড়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।” তিনি উল্লেখ করেন, বহু সিনিয়র কর্মচারী আছেন, যাদের নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের কারণে বেতন ইতিমধ্যে নতুন বেতনকাঠামোর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ফলে নতুন স্কেল চালু হলেও তাদের বেতন তেমন একটা বাড়বে না। এটিকে তিনি বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন।

উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমি অনেককে হিসাব করতে দেখেছি, নতুন স্কেল হওয়ার পরে তাদের বেতন আসলে কত টাকাই–বা বাড়বে?” তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমরা কি পয়েন্টটি ধরতে পেরেছি?” অর্থাৎ, যারা দীর্ঘদিন ধরে একই বেতন স্কেলে আছেন, তাদের জন্য এই পরিবর্তন বিশেষ সুবিধা বয়ে আনবে না বলেই মন্তব্য করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই অনুমোদনের পরই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের মধ্যে মূল বেতন বৃদ্ধি মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এরপর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোর ভাতা একযোগে কার্যকর হবে।

নতুন বেতনকাঠামোয় গ্রেডভেদে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে, গ্রেড ১২ থেকে ২০ পর্যন্ত বৃদ্ধির হার ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ। সেই হিসাবে, সর্বনিম্ন ২০ নম্বর গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে। অপরদিকে, সর্বোচ্চ ১ নম্বর গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের মতে, এই বৃদ্ধির হার যতটা বড় মনে হচ্ছে, বাস্তবে অনেকের ক্ষেত্রে ততটা প্রভাব পড়বে না। কারণ, যাদের বেতন ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে ইতিমধ্যে উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, তারা নতুন স্কেলেও প্রায় একই পর্যায়ে থাকবেন। তিনি বলেন, “এটা বৈষম্য কমানোর জন্য নেওয়া একটি পদক্ষেপ।” অর্থাৎ, যারা ক্যারিয়ারের শুরুতে রয়েছেন, তাদের জন্য এটি বেশি উপকারী হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে আগামী ১ জুলাই থেকে কিছু অংশ কার্যকর হবে, পরে পর্যায়ক্রমে বাকি অংশ। তবে ভাতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে পুরোপুরি চালু হবে। সরকার আশা করছে, এই কাঠামোর মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।