২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থান দমনে অর্থ সহায়তা প্রদানের অভিযোগে মোতাহার হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম আদালতকে জানান যে, মোতাহার হোসেন জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের প্রতিহত করতে আর্থিক জোগানদাতা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মোতাহার হোসেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা বাহাউদ্দিন নাসিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তি।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, যখন উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনের সময় মো. জসিম নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন পঙ্গু হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর জসিমের স্ত্রী মোছা. ফরিদা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় মোট ২০৫ জনের নাম নির্দিষ্ট করে এবং আরও অনেক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছিল। এই মামলার ১৯৬ নম্বর আসামি হিসেবে নাম আসীন ছিলেন ৬৬ বছর বয়সী মোতাহার হোসেন।
গত ২ নভেম্বর ডিবি পুলিশ গুলশান এলাকা থেকে মোতাহার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে এবং পরবর্তীতে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। আজ শনিবার তদন্তকারী পুলিশ তাঁর দ্বিতীয় দফার রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত তিন দিনের মেয়াদ মঞ্জুর করেন। পুলিশি আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে মোতাহার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গোপন করেছেন। তাই সংগৃহীত তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং আরও বিস্তারিত জানতে তাঁকে পুনরায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, তদন্ত প্রক্রিয়াই এখন চলমান। মোতাহার হোসেন এই মামলায় ১৯৬ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি হলেও এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক পদ-পদবি পাওয়া যায়নি। তবে তিনি বাহাউদ্দিন নাসিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।




