বেসরকারি খাতের বিদ্যমান ঝুঁকি হ্রাস করা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সুরক্ষিত ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের মতে, ব্যবসার প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে এমন বিষয়গুলো দূর করতে কার্যকর নীতিগত উদ্যোগ এবং প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।
রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এই কথাগুলো বলেন। সেমিনারটির বিষয় ছিল 'ফ্রম ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার টু এআই ইকোনমি: বিল্ডিং বাংলাদেশ'স নেক্সট গ্রোথ ইঞ্জিন'। অনুষ্ঠানে সচিব উল্লেখ করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রসারে উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যৌথ গবেষণার পরিবেশ তৈরি করতে এবং এর জন্য বিশেষ প্রণোদনা কাঠামো প্রণয়নের পরিকল্পনার কথা জানান।
সেমিনারটিতে মূলত বাংলাদেশের চলমান ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা, নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতির গতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন উপস্থিত বক্তারা।
বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের জন্য ওরাকলের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুবাবা দৌলারের সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভায় অংশ নেন বিভিন্ন খাতের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব। তাদের মধ্যে ছিলেন গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান, ভিসা-র কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ, শপআপের সিইও ও সহপ্রতিষ্ঠাতা আতাউর রহিম চৌধুরী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আব্দুর রাজ্জাক। আলোচনায় বিশেষ করে ই-কমার্স, টেলিযোগাযোগ এবং আর্থিক সেবা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোকপাত করা হয়।
উল্লেখ্য যে, এই সেমিনারের পাশাপাশি গত ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী 'ইউএস ট্রেড শো'-তে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবার প্রদর্শনী করা হয়েছে।




