অ্যামাজনের দীর্ঘদিনের একটি পরিষেবা, যাকে প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস একসময় 'কৃত্রিম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা' বলে ডাকতেন, সেটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ২০০৫ সালে চালু হওয়া মেকানিক্যাল টার্ক মূলত এমন কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল যা মানুষের পক্ষে করা সহজ, কিন্তু কম্পিউটারের জন্য সেগুলো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। প্ল্যাটফর্মটি ক্রাউডসোর্সিংয়ের একটি প্রাথমিক উদাহরণ হিসেবে পরিচিত ছিল, যেখানে বিশ্বজুড়ে থাকা 'কর্মীরা' ছোট ছোট কাজ (HITs - Human Intelligence Tasks) করে অর্থ উপার্জন করতে পারতেন। এই কাজগুলোর মধ্যে ছবি শনাক্তকরণ, লেখা প্রতিলিপি করা বা জরিপের উত্তর দেওয়ার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা তৈরি ও লেবেল করার কাজে। তবে প্রযুক্তির বিবর্তন এবং অটোমেশনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের ফলে ধীরে ধীরে প্ল্যাটফর্মটির প্রাসঙ্গিকতা হ্রাস পেতে থাকে। অ্যামাজনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হওয়ার সঠিক তারিখ বা পরিষেবাটি বন্ধ করার পেছনে বিস্তারিত কারণ অবশ্য তেমনভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মধ্যে এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে; অনেকে মনে করছেন, এটি পুরোনো প্রযুক্তির যুগাবসানেরই একটি ইঙ্গিত। মেকানিক্যাল টার্ক ব্যবহারকারী অনেক ফ্রিল্যান্সার ও গবেষকের জন্য এটি ছিল একটি বিকল্প আয়ের উৎস, ফলে তাদের মাঝে কিছুটা হতাশাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অ্যামাজনের এই সিদ্ধান্তটি প্রযুক্তি খাতে পরিবর্তনশীল গতির একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে একটি সময়ের অত্যন্ত কার্যকর সমাধান পরবর্তী প্রযুক্তির কাছে জায়গা ছেড়ে দেয়।
বেজোসের 'কৃত্রিম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা' খ্যাত অ্যামাজন পরিষেবা বন্ধ হচ্ছে
মানুষের জন্য সহজ কিন্তু কম্পিউটারের জন্য কঠিন কাজগুলো সম্পন্ন করতে ২০০৫ সালে চালু হওয়া অ্যামাজনের মেকানিক্যাল টার্ক প্ল্যাটফর্মটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেফ বেজোস একে 'কৃত্রিম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা' বলে অভিহিত করেছিলেন।




