ফরাসি ফুটবল ক্লাব পিএসজি-র কাতারি সভাপতি নাসের আল খেলাইফি এক নতুন আইনি জটিলতায় পড়েছেন। একই সাথে একটি ফুটবল ক্লাবের কর্ণধার এবং টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক হওয়ার কারণে স্বার্থের সংঘাত এবং বেআইনি প্রভাব খাটানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ফরাসি প্রসিকিউশন। প্যারিসের প্রসিকিউটর কার্যালয় সম্প্রতি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক 'লেকিপ'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাসের আল খেলাইফি পিএসজি ক্লাবের মালিক হওয়ার পাশাপাশি বিইন মিডিয়া গ্রুপের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই দ্বৈত ভূমিকার কারণেই তদন্তের মুখে পড়েছেন তিনি। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ফরাসি ফুটবল লিগ কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের সাথে টেলিভিশন সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠক এখন তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মূল নজরকেন্দ্রে। জানা গেছে, প্রতি সপ্তাহে একটি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচারের বিনিময়ে বিইন স্পোর্টস ১০ কোটি ইউরোর একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রস্তাবটি জমা দেওয়ার ঠিক পরের দিনই লিগ কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠকে বসেন খেলাইফি এবং পরবর্তী সময়ে বিইন স্পোর্টসের সেই প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ‘অ্যান্টিকর’-এর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গত এপ্রিল মাসে এই অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আর্থিক পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী বিভাগের ওপর। বার্তা সংস্থা এএফপি-র এক সূত্র জানিয়েছে, অ্যান্টিকরের অভিযোগ অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। বিইন মিডিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে খেলাইফি নিজেই সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যেখানে বিইন-এর দেওয়া আর্থিক বিড বা প্রস্তাবের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হচ্ছিল, যা সরাসরি স্বার্থের সংঘাত তৈরি করে। এর পাশাপাশি, বিইন স্পোর্টসের প্রস্তাবটি যেন কোনো বাধা ছাড়াই পাস হয়, সেজন্য লিগ ওয়ানের অন্যান্য ক্লাব সভাপতিদের ওপর তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ সৃষ্টি করেছিলেন বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে নাসের আল খেলাইফির পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ শুরুতেই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তাঁর আইনজীবী রেনোঁ সেমার্দজিয়ান এএফপি-কে জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আইনগত এবং বস্তুগত—উভয় দিক থেকেই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, আল খেলাইফি সব সময় নিরপেক্ষ, স্বাধীন এবং বস্তুনিষ্ঠভাবে তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্টস গ্রুপের মাধ্যমে খেলাইফি পিএসজির মালিকানা লাভ করেন। তবে তাঁর অতীত আইনি লড়াই দীর্ঘ। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডারদের ভোটাভুটিতে ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে তিনি অভিযুক্ত হয়েছিলেন। এছাড়া ২০১৭ এবং ২০১৯ সালের বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক হওয়ার দৌড়ে কাতারের দরপত্র সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছিল। যদিও ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফরাসি সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল যে, ওই নির্দিষ্ট বিষয়ে ফরাসি বিচারব্যবস্থার কোনো এখতিয়ার নেই, যার ফলে সেই মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছিলেন।