বিশ্বকাপের পর দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রত্যাবর্তন করল আর্জেন্টিনা। কর্দোবায় বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচে বলিভিয়াকে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে তারা। স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ফাইনালে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হওয়ার পর এটিই ছিল আলবিসেলেস্তেদের প্রথম ম্যাচ। এই জয়ের মাধ্যমে নতুন একটি চক্রের সূচনা হলো বলে মনে করছেন দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি জানান, তিনি দলের ধারাবাহিকতা এবং লড়াই করার মানসিকতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, জয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এগিয়ে যাওয়া। যারা জাতীয় দলে থাকতে আগ্রহী নন, তারা তা স্পষ্টভাবে জানাতে পারেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। গত চার বছরের অসাধারণ যাত্রা এবং রানার্সআপ হওয়ার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে সামনে এগিয়ে যেতে চান তিনি।
আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন লিওনেল মেসির অনুপস্থিতি, কারণ মহাতারকাটি আগেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন। তবে স্কালোনি আত্মবিশ্বাসী যে, মেসির বিকল্প না থাকলেও দলের খেলার ধরন বা ঘরানা অপরিবর্তিত থাকবে। বলের দখল রাখা এবং নিখুঁত পাসের মাধ্যমে খেলা চালিয়ে যাওয়ার যে কৌশল আর্জেন্টিনা অনুসরণ করে, সেটিই নতুনদের মাঝে গেঁথে দিতে চান তিনি। অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের সংমিশ্রণে সাজানো এই দলের পরিচয় ও শৈলী ধরে রাখাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য।
খেলোয়াড়দের মানসিকতা এবং মাঠের লড়াই নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে স্কালোনি বলেন, এই জার্সি পরলে যেভাবে খেলা উচিত, ছেলেরা ঠিক সেভাবেই খেলেছে। বিশেষ করে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা কোনো প্রকার শিথিলতা না দেখিয়ে যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তা নতুনদের জন্য একটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স এবং নিজস্ব পরিচয় বজায় রাখার বিষয়টি তাঁকে খুশি করেছে।
এই ম্যাচের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেক হয়েছে রোমান ভেইগা, এসেকিয়েল ফের্নান্দেস, ভালেন্তিন গোমেস, সান্তিয়াগো সিমন এবং লিওনেল ফ্লোরেসের। স্কালোনির কোচিংয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৭০ জন খেলোয়াড় আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেকের সুযোগ পেয়েছেন। বিপুল সংখ্যক বিকল্প খেলোয়াড় থাকা নিয়ে তিনি গর্বিত। যদিও চূড়ান্ত দল নির্বাচনে এটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে, তবে নতুনদের জাতীয় দলের জার্সিতে নামার সুযোগ করে দেওয়াকে তিনি সম্মানের ও রোমাঞ্চকর বিষয় হিসেবে দেখছেন।




