গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ৪০৫ রানের পাহাড় সমান লক্ষ্যমাত্রা অনায়াসেই জয় করে নিয়েছে ভারত। ৮ উইকেটে এবং ৩৯ বল বাকি থাকতেই এই জয় নিশ্চিত করে তারা। তবে এই রান উৎসবের ম্যাচে জয়ের স্বস্তি পাওয়ার বদলে বোলারদের করুণ অবস্থার কথা ভেবে সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গাম্ভীর। তার মতে, যেখানে ব্যাট ও বলের মধ্যে কোনো লড়াই থাকে না, তাকে প্রকৃত ক্রিকেট বলা চলে না; এটি কেবল ব্যাটিং প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে।

ম্যাচটির কথা বলতে গিয়ে গাম্ভীর জানান, এমন পিচে একজন তরুণ বোলার যখন বল করেন এবং প্রতিপক্ষ ৪০০ রান করে ফেলে, তখন সেটি বোলারদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। যদিও দর্শকদের জন্য এই ম্যাচটি অবিশ্বাস্য এবং সম্প্রচারকারীদের জন্য চমৎকার ছিল, তবে একজন কোচ ও ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে তিনি বোলারদের প্রতি সংবেদনশীল। তার দাবি, উইকেট থেকে সহায়তা না পেলে বোলিং ফিগার দিয়ে বোলারদের পারফরম্যান্স বিচার করা উচিত নয়। কারণ প্রতিকূল পরিবেশে সংখ্যাগতভাবে খারাপ মনে হলেও বাস্তবে তারা ততটা খারাপ বল করেননি।

এই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জন ক্যাম্পবেল, শেই হোপ ও আমির জাঙ্গুর সেঞ্চুরি করে দলের স্কোর ৪০৫-এ পৌঁছে দিয়েছিলেন। জবাবে ভারতের হয়ে রোহিত শর্মা সেঞ্চুরি করেন এবং শুবমান গিল ১৩৩ বলে ২২৩ রানের এক রেকর্ড গড়া অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয়বার চারশ রান তাড়া করে জয় পেল ভারত; এর আগে ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ রান তাড়া করে জিতেছিল।

সিরিজটি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে টানা ১৪টি ওয়ানডে সিরিজ জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়ল ভারত, যা অন্য কোনো দলের নেই। তবে গাম্ভীর মনে করেন, বর্তমান ওয়ানডে ক্রিকেটে দুটি নতুন বলের ব্যবহার, ফিল্ডিংয়ের কড়াকড়ি এবং ব্যাটসম্যানদের চরম আগ্রাসনের কারণে বোলাররা এমনিতেই চাপের মুখে থাকেন। তাই বোলারদের কিছু সুযোগ দেওয়ার জন্য ভারসাম্যপূর্ণ পিচ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।