বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ আরও উন্নত করতে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার। গত মঙ্গলবার এক দিনের সংক্ষিপ্ত ঢাকা সফরে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী শুর্দসমারের মতে, নেদারল্যান্ডসের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহী, তবে এর জন্য একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রয়োজন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, স্থিতিশীল গণতন্ত্র এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকলে বিনিয়োগকারীরা আশ্বস্ত হন যে তাদের পুঁজি নিরাপদ থাকবে। ডাচ বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ বিবেচনা করেন। নিজের দেশের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, নেদারল্যান্ডসে সাংবাদিকরা অত্যন্ত সমালোচনামূলক প্রশ্ন করেন এবং মন্ত্রী হিসেবে তা পছন্দ না হলেও যৌক্তিক উত্তরের মাধ্যমে পার্লামেন্ট ও জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ডাচ মন্ত্রী। তাঁর মতে, এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার উত্থান এবং সামাজিক পরিবর্তনের একটি নতুন সূচনা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে, যেখানে গণতান্ত্রিক সংস্কার অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা আলোচিত হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই সংস্কারগুলো যেন বাস্তবে কার্যকর হয়, সেই অনুরোধ জানিয়েছেন।

অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, কেবল রাজনৈতিক উত্তরণই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নকেও সমান্তরালে এগিয়ে নিতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদার হতে প্রস্তুত, তবে এর জন্য বাংলাদেশ সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে এবং নতুন সরকার বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানাচ্ছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তবে সংস্কার প্রক্রিয়া একদিনে শেষ হয় না, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা ও ধারাবাহিক বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়ে শুর্দসমার শ্রমিকদের অধিকারের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ইইউ এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত কার্যকর হওয়া প্রয়োজন এবং নেদারল্যান্ডস এই লক্ষ্যে চাপ দিচ্ছে। তবে এই চুক্তি সফল করতে হলে শ্রমিকদের অধিকারকে সম্মান জানানো এবং বিদ্যমান অশুল্ক বাধাগুলো দ্রুত সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি।