বাংলাদেশে নতুন ল্যাপটপ উন্মোচন করতে আসা আসুসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এশিয়া প্যাসিফিক কমার্শিয়াল বিজনেসের মহাব্যবস্থাপক রেক্স লি দেশটিকে একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে অভিহিত করেছেন। ১৭ কোটিরও বেশি জনসংখ্যা এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৭ থেকে ৮ শতাংশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। রেক্স লি-র মতে, যদিও বর্তমান বাজারের আকার খুব বড় নয়, তবে আগামী কয়েক বছরে এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আসুস বিশ্বাস করে।

প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চায় আসুস। বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, করপোরেট সেক্টর এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য বাণিজ্যিক কম্পিউটারের বাজারে শীর্ষ ব্র্যান্ড হওয়া তাদের প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে তাদের বিপণন ও বিক্রয় কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করছে। তবে বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে সরাসরি পণ্য উৎপাদন বা সংযোজনের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই বলে জানিয়েছেন রেক্স লি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি জানান, এআই মানুষের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় আসুস এখন যন্ত্রভিত্তিক এআই সমাধান নিয়ে কাজ করছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা যন্ত্রের ভেতরে সরাসরি এআই, হাইব্রিড পদ্ধতি কিংবা অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থার মধ্য থেকে নিজেদের পছন্দমতো বিকল্প বেছে নিতে পারবেন। তার মতে, যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার রপ্ত করবেন, তারা অন্যদের তুলনায় প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবেন।

র‍্যাম এবং এসএসডির বিশ্বব্যাপী মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি জানান, এর ফলে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যন্ত্রের দাম বেড়েছে। তবে আসুসের সদর দপ্তর কিছু ডিডিআর৪ র‍্যাম মজুত করতে সক্ষম হয়েছে, যা চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিক এবং আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে বাজারে আনা হবে। এতে মেমোরি সংক্রান্ত খরচ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে রেক্স লি বলেন, আগামী ৩ থেকে ৫ বছরে তারা বাংলাদেশে ব্যবসা আরও বড় করতে চান। এর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো এবং অফিস আরও বড় জায়গায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এছাড়া বাংলাদেশের তরুণদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, প্রোগ্রামিং ও সৃজনশীল কাজে তরুণরা বেশ দক্ষ, তবে সফল ক্যারিয়ার গড়তে হলে কেবল অন্যদের অনুসরণ না করে নতুন উদ্ভাবন ও মৌলিক ধারণা নিয়ে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।