বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রতিবছর আনুমানিক ৫০ লক্ষ মানুষ আয়কর রিটার্ন জমা দেন। চলতি বছর থেকে সবাইকে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে হবে। কিন্তু রিটার্ন প্রস্তুত করতে গিয়ে অনেক করদাতা কিছু সাধারণ ভুল করেন, যা পরবর্তীতে নানা জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সঠিকভাবে রিটার্ন জমা দিতে হলে এসব ভুল এড়ানো জরুরি।

রিটার্নে নগদ অর্থের পাশাপাশি যেসব সম্পদ প্রদর্শন করা হয়, সেগুলোর অর্জনের ব্যাখ্যা থাকা বাধ্যতামূলক। আয়ের উৎস সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণাদি সংরক্ষণ করতে হবে।

প্রথম ভুল হলো অতিরঞ্জিত সোনার গয়না দেখানো। অনেক করদাতা রিটার্নে ৪০-৫০ ভরি সোনার গয়না দেখিয়ে থাকেন। বর্তমান বাজারমূল্যে এমন বিপুল পরিমাণ সোনার দাম কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। অথচ এই সোনা কীভাবে অর্জিত হলো, তার কোনো ব্যাখ্যা থাকে না। এতে আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্য দেখা দিলে কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন তুলতে পারে। তাই প্রকৃত যতটুকু সোনা আছে, কেবল ততটুকুই দেখানো উচিত।

দ্বিতীয় ভুল হলো মাত্রাতিরিক্ত নগদ টাকা প্রদর্শন। অনেকেই রিটার্নে হাতে থাকা নগদ অর্থের চেয়ে বেশি পরিমাণ দেখিয়ে থাকেন। কারণ, অনেক সময় ব্যাংকে না রেখে বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়দের মাধ্যমে জমা সঞ্চয় একত্রিত হলে তা একসাথে দেখালে উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই আগে থেকেই কিছুটা বেশি নগদ দেখানোর কৌশল গ্রহণ করেন কেউ কেউ। তবে এটি ঝুঁকিপূর্ণ। আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকলে এই অতিরিক্ত নগদই বিপদের কারণ হতে পারে। তাই হাতে প্রকৃত যে অর্থ আছে, তা-ই রিটার্নে উল্লেখ করা ভালো।

তৃতীয় ভুলটি হলো উপহার প্রাপ্ত সম্পদ প্রদর্শনে অবহেলা। মা-বাবা, ভাইবোন, স্ত্রী-সন্তানদের কাছ থেকে পাওয়া জমি, ফ্ল্যাট, গয়না বা অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র অনেকেই রিটার্নে দেখান না। অথচ আইনে এসব উপহার করমুক্ত থাকলেও রিটার্নে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। উপহার প্রদর্শন না করলে পরে কর ফাঁকির অভিযোগ উঠতে পারে।

চতুর্থ ভুল হলো বিনিয়োগ না দেখানো। এফডিআর, ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করে অনেকে তা রিটার্নে দেখান না। এখন অটোমেশন যুগে কর কর্মকর্তারা সহজেই এই তথ্য জানতে পারেন। বিনিয়োগ প্রদর্শন করলে কর কমানোর সুযোগ থাকে, কারণ নির্দিষ্ট বিনিয়োগ খাতে কর ছাড় পাওয়া যায়। তাই বিনিয়োগগুলো সঠিকভাবে দেখানো উচিত এবং বৈধ খাতেই বিনিয়োগ করা ভালো।

পঞ্চম ভুল হলো আয়ের চেয়ে খরচ বেশি দেখানো। এমন করলে আয়ের অতিরিক্ত খরচের উৎস ব্যাখ্যা করতে হবে, যা অত্যন্ত জটিল। মনে রাখতে হবে, কর শুধু আয়ের উপরই ধার্য হয়, খরচের উপর নয়। তাই প্রকৃত আয়ই রিটার্নে দেখিয়ে করযোগ্য হলে কর পরিশোধ করাই উত্তম।

সবশেষে, প্রথমবার রিটার্ন জমা দিলে নগদ অর্থ ও অন্যান্য সম্পদের পাশাপাশি অর্জনের ব্যাখ্যা এবং আয়ের উৎসের বিবরণ দিতে হবে। সম্পদের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ সংরক্ষণও অপরিহার্য। এসব বিষয় মেনে চললে রিটার্ন জমায় জটিলতা এড়ানো সম্ভব।