জাকার্তার গেলোরা বুং কর্নো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আসিয়ান কাপের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করল বাংলাদেশ ফুটবল দল। লড়াইয়ের ন্যূনতম চেষ্টা করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ৯-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয় টমাস ডুলির শিষ্যরা। এই জয়ের ফলে ইন্দোনেশিয়া টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছে গেলেও, বাংলাদেশ জয়শূন্য অবস্থায় তাদের অভিযান শেষ করল। তিন ম্যাচে বাংলাদেশ মাত্র দুটি গোল করতে পেরেছে এবং প্রতিপক্ষের জালে ১৩টি বল যেতে দিয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর—তিনটি দলই ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই প্রবল চাপে ছিল বাংলাদেশ। কোচ টমাস ডুলি ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে দল সাজালেও মাঠে তার কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং রক্ষণভাগের অগোছালো অবস্থানের সুযোগ নিয়ে ইন্দোনেশিয়া তাদের গতিময় আক্রমণ দিয়ে বাংলাদেশকে দিশাহারা করে তোলে। বিশেষ করে ১৯ বছর বয়সী দীর্ঘদেহী স্ট্রাইকার মিচেল বেকার বাংলাদেশের রক্ষণভাগের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হন; তাঁর পা থেকে এসেছে দলের মোট ৯টি গোলের মধ্যে ৫টি। গতি, শক্তি এবং অভিজ্ঞতায় ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ দল।
তবে এই চরম পরাজয়ের মাঝেও বাংলাদেশ দুটি গোল শোধ করতে পেরেছে। ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে শুকি ইতোফুসার ক্রস থেকে হেডে গোল করেন শাহরিয়ার ইমন, যা ছিল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রথম গোল। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে রাকিব হোসেনের ক্রস থেকে লক্ষ্যভেদ করেন ফারহান আলী। ম্যাচের এক পর্যায়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়; বিশেষ করে সাদে ও ইন্দোনেশিয়ার ওলে রোমেনির হাতাহাতির ঘটনায় রেফারি দুজনেই হলুদ কার্ড দেখান।
এই পরাজয় বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এক করুণ স্মৃতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। যদিও ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ১৯৮২ সালে ইরানের কাছে ৯-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ, তবে আজকের ম্যাচে দুটি গোল করতে পারায় সেই রেকর্ডের সংখ্যাটি আর বাড়েনি। উল্লেখ্য, ভারত নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ফিফার আমন্ত্রণে শেষ মুহূর্তে আসিয়ান কাপে সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। মূল লক্ষ্য ছিল নভেম্বরে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি নেওয়া। কিন্তু তিন ম্যাচে তিন হার এবং বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ভঙ্গুর রক্ষণভাগের এই প্রদর্শনী কোচ টমাস ডুলিকে নতুন করে পরিকল্পনা করতে বাধ্য করবে।




