ক্রিস্টোফার নোলানের সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’ ধারণার চেয়েও ভালো ফল করে দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে বক্স অফিসে তার আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। হলিউডের বাণিজ্য সংক্রান্ত প্রকাশনাগুলোর প্রারম্ভিক হিসাব অনুযায়ী, ছবিটি উত্তর আমেরিকার প্রেক্ষাগৃহ থেকে আনুমানিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। বক্সঅফিস প্রো আগেই এই আয়ের পরিমাণ ৭৫ থেকে ৮৫ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে প্রক্ষেপণ করেছিল, যা ছবিটি সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। প্রথম সপ্তাহান্তের তুলনায় এই আয় কমেছে মাত্র ৩০ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পাওয়া আরও ২১৫.৩ মিলিয়ন ডলার যোগ হওয়ায় প্রাচীন গ্রিক এই মহাকাব্যভিত্তিক ছবিটির বিশ্বব্যাপী মোট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৬৩৯.৬ মিলিয়ন ডলারে। এই বিশাল অঙ্কের ফলে ‘দ্য ওডিসি’ নোলানের চলচ্চিত্র জীবনে দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়েছে। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য ডার্ক নাইট’-এর দখলে, যা দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে আয় করেছিল ৭৫.১ মিলিয়ন ডলার।

শুধু নোলানের ক্যারিয়ারেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিস ইতিহাসেও এই আয় একটি বিশেষ মাইলফলক। ‘আর’-রেটেড বা প্রাপ্তবয়স্ক-নির্দেশিত ছবির ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে সর্বোচ্চ আয়ের তালিকায় এটি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। এর ওপরে রয়েছে কেবল ২০২৪ সালের ‘ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন’, যা দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে ৯৬ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল।

ছবিটি শেষ পর্যন্ত ১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করবে কিনা এবং নোলানের সর্বোচ্চ আয়ের ছবি হয়ে উঠবে কিনা, তা এখন দেখার বিষয়। ‘দ্য ডার্ক নাইট’ এবং ‘দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস’ উভয়ই ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছিল, যেখানে ২০১২ সালে পরের ছবিটি ১.০৮ বিলিয়ন ডলার আয় করে শীর্ষে ছিল।

‘দ্য ওডিসি’-র টিকিট বিক্রির একটি বড় অংশই আসছে আইম্যাক্স প্রেক্ষাগৃহ থেকে, যা নোলানের পছন্দসই প্রদর্শন মাধ্যম। ভ্যারাইটি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে আইম্যাক্স টিকিট বিক্রি এখন পর্যন্ত ১৪০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। লস এঞ্জেলস ও নিউ ইয়র্কের মতো প্রধান বাজারগুলে আইম্যাক্সের টিকিট কয়েক সপ্তাহের জন্য সোল্ড আউট, যার সুযোগে টিকিটের কালোবাজারে দর্শকদের কাছে ১,০০০ ডলার পর্যন্ত দামে পুনর্বিক্রয়ের চেষ্টা চলছে।

সাপ্তাহিক ছুটির বক্স অফিসে ‘দ্য ওডিসি’ আধিপত্য বিস্তার করলেও, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান দখল করেছে ডিজনির আরও পরিবারবান্ধব দুটি ছবি। লাইভ অ্যাকশন ‘মোয়ানা’ রিবুটটি আনুমানিক ১০.৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে দ্বিতীয় স্থানে এবং ‘টয় স্টোরি ৫’ ষষ্ঠ সপ্তাহান্তে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার আয় করে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ডিজনি/পিক্সার-এর অ্যানিমেটেড ছবিটি অবশেষে ১ বিলিয়ন ডলারের সীমানা অতিক্রম করেছে এবং ১.০২ বিলিয়ন ডলারের বিশ্ব পরিসংখ্যান নিয়ে এ পর্যন্ত চলতি বছরের সর্বোচ্চ আয়ের চলচ্চিত্রে পরিণত হয়েছে।