বায়ার্ন মিউনিখের জার্মান আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার জামাল মুসিয়ালা জানিয়েছেন, তিনি স্নায়বিক সমস্যা বা 'নিউরোলজিক্যাল ডিসফাংশনে' ভুগছেন। এই সমস্যার কারণেই গত কয়েক দিনের ব্যবধানে মাঠে দুইবার তিনি জ্ঞান হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।

জার্মানির দ্বিতীয় বিভাগের দল হেইডেনহাইমের বিপক্ষে গত মঙ্গলবারের প্রীতি ম্যাচে ৬১তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামেন ২৩ বছর বয়সী মুসিয়ালা। মাঠে নামার মাত্র ছয় মিনিটের মাথায় তিনি লুটিয়ে পড়েন। সতীর্থরা এগিয়ে এলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর নিজের পায়ে হেঁটেই মাঠ ছাড়েন তিনি। এর আগে গত শনিবার আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে বদলি হিসেবে নামার ১৫ মিনিটের মধ্যে একই ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিয়ে বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি বার্তা পোস্ট করেন মুসিয়ালা। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, 'ক্ষণস্থায়ী কিন্তু সহজেই নিরাময়যোগ্য অ্যাবসেন্স' (ক্ষণিক অচেতনতা) ধরা পড়েছে তাঁর শরীরে, যা স্নায়বিক সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। তাঁর মতে, লাইপজিগ ও হেইডেনহাইম ম্যাচে এমনটি হওয়ার কারণও এটিই। প্রথম দেখায় বিষয়টি ভীতিজনক মনে হলেও এটি তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ বলে মন্তব্য করেন তিনি। সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং বায়ার্ন ও ব্যক্তিগত পরিমণ্ডলের সবাই তাঁর পাশে থাকার কথাও উল্লেখ করেন।

মুসিয়ালা আরও জানান, তিনি নিয়মিত বিশেষজ্ঞ এবং স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিচ্ছেন। তাদের সবুজ সংকেত পেলেই তিনি ফুটবল খেলা চালিয়ে যেতে চান। তাঁর ভাষায়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এর বাইরে স্বাস্থ্যগত অন্য কোনো ঝুঁকি নেই।

বায়ার্ন মিউনিখের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ম্যাক্স এবার্ল গত মঙ্গলবার জানান, মুসিয়ালার এই সমস্যার ব্যাপারে ক্লাব আগে থেকেই অবগত ছিল। তবে বিষয়টি যাতে তিনি নিজেই সবার সামনে তুলে ধরতে পারেন, সেজন্য তাঁর ওপরই সব ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, হ্যারি কেইনের পাশাপাশি মুসিয়ালা বায়ার্নের সর্বোচ্চ বেতনভুক্ত খেলোয়াড়দের একজন। গত ১৮ মাসে বেশ কিছু চোটের সঙ্গে লড়তে হয়েছে তাঁকে। গত গ্রীষ্মে ক্লাব বিশ্বকাপে পায়ের হাড় ভাঙার পর সেরে উঠতে বেশ কয়েক মাস লেগেছিল। মাঠে ফেরার পর সেই চোটের কারণে গোড়ালিতে বারবার সমস্যা দেখা দেয়। সম্প্রতি তাঁর বাঁ পায়ের পাতা থেকে একটি ধাতব প্লেট বা স্ক্রু অপসারণ করা হয়েছে। ফলে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ও দলের এশিয়া সফরে অংশ নিতে পারেননি তিনি।

লাইপজিগ ও হেইডেনহাইমের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচগুলো ছিল মুসিয়ালার আগামী মৌসুমের জন্য ফিট হয়ে ওঠার প্রস্তুতি। তবে প্রত্যাশিত সময়ের চেয়েও দীর্ঘ হতে পারে তাঁর পুনর্বাসনের পথ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। সর্বশেষ বিশ্বকাপে মুসিয়ালার পারফরম্যান্স ছিল সাদামাটা, যেখানে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে শেষ ৩২ দলের রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয় জার্মানি। বিশ্বকাপ শেষে ছুটি সংক্ষিপ্ত করে একাই ফিটনেস ট্রেনিং চালিয়ে যান তিনি।