মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস জানিয়েছেন, দেশের মূল্যস্ফীতি চালিতকারী উপাদানগুলোর মধ্যে এখন তাঁর সবচেয়ে বড় নজর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) থেকে সৃষ্ট চাহিদার দিকে। নিউ ইয়র্ক ফেড আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে তিনি বলেন, এই চাহিদা যদি সরবরাহের তুলনায় চাহিদার দিক থেকে স্থায়ী চাপ সৃষ্টি করে, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সেই পরিস্থিতি উপেক্ষা করে চলা সম্ভব নয়। বরং, মূল্যস্ফীতি যদি তাঁর ভিত্তি পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি স্থায়ী এবং উল্লেখযোগ্যভাবে উচ্চতর হয়, তবে মুদ্রানীতি সেই অনুযায়ী সাড়া দিতে বাধ্য হবে। অন্যদিকে, পরিস্থিতি যদি আরও অনুকূল হয়, তাহলে বর্তমান মুদ্রানীতি যথাযথ অবস্থাতেই রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মূল্যস্ফীতি পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গে উইলিয়ামস ফেডের পছন্দের মূল্যস্ফীতি মাপকাঠি তথা ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় সূচকের (পিসিই) মূলভিত্তিক সংস্করণ নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর ভাষ্যে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে যদি এই কোর পিসিই মাসিক ০.২ শতাংশ হারে আসে, তাহলে তা মূল্যস্ফীতি ফেডের বার্ষিক ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রায় ফিরে আসার পথে রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেবে। তিনি বলেন, ‘এই বছরের দ্বিতীয়ার্ধে যদি মাসে কোর পিসিই দুই দশমাংশ হয়, তাহলে তা মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসের চলমান প্রক্রিয়ার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।’ এর চেয়ে বেশি হলে সেটি মূল্যস্ফীতি আরও স্থায়ী হওয়ার লক্ষণ হবে বলে জানান তিনি।

ফেড চলতি বছর তাদের মূল সুদের হার স্থিতিশীল রেখেছে। তবে কর্মকর্তাদের মধ্যে সুদহার বৃদ্ধির পক্ষে সমর্থন বাড়ছে। জুনের বৈঠকে জমা দেওয়া অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে নয়জন নীতিনির্ধারক ২০২৬ সালে অন্তত একবার ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওই বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুসারে, কয়েকজন অংশগ্রহণকারী জুনেই সুদহার বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছিলেন। কার্যবিবরণীতে ভবিষ্যতের বিভিন্ন মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির প্রতি কীভাবে সাড়া দেওয়া যায় সে বিষয়ে আলোচনার কথাও উঠে আসে। উইলিয়ামস মনে করেন, এই আলোচনা ও কার্যবিবরণী থেকে ফেডের ‘সামষ্টিক প্রতিক্রিয়া ফাংশন’ ধরা পড়ে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থনীতি নিয়ে চিন্তাভাবনা ও নির্দিষ্ট অবস্থার প্রতিক্রিয়ার কাঠামো নির্দেশ করে। তিনি বলেন, ‘এটি বিভিন্ন পরিস্থিতির সমৃদ্ধি দেখায়।’

নবনিযুক্ত ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নতুন পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে সম্প্রতি কয়েকটি টাস্ক ফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই টাস্ক ফোর্সগুলো ফেডের যোগাযোগ, ব্যালান্স শীট ও মূল্যস্ফীতি মডেল পর্যালোচনা এবং উৎপাদনশীলতা ও তথ্যের উৎসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষণা করবে। ওয়ার্শ জানিয়েছেন, পরিবর্তনের সুপারিশ করতে টাস্ক ফোর্সগুলোর কাছে প্রায় ছয় মাস সময় থাকবে। ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) ভাইস চেয়ারম্যানও বটেন উইলিয়ামস, তিনি এই টাস্ক ফোর্সগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো নিয়ে চিন্তা করার ‘অনন্য ও সময়োপযোগী’ সুযোগ বলে অভিহিত করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে সেই রিপোর্ট ফিরিয়ে দেওয়ার সময়সীমা বেশ আক্রমণাত্মক।’