বহু বছর আগে নিজের নাম নিয়ে এক কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন তিনি। ফেসবুকে সেই গল্প তিনি আগেও অনেকবার বলেছেন, আবারও বললেন। স্কুলজীবনের শুরুর দিকে তাঁর নাম ছিল মুহসিন আহমেদ। সহপাঠীদের মুখে সেই নাম ঘুরতে ঘুরতে হয়ে যায় ‘মেশিন আহমেদ’। প্রায় তিন বছর এই নামের লাঞ্ছনা তাকে সইতে হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণিতে নতুন স্কুলে ভর্তির সময় তিনি রুখে দাঁড়ান — এই নাম তিনি মানবেন না, চান নতুন নাম। বাবার বাধা কাজে আসেনি। নানা টানাপোড়েনের পর পরিবারের সিদ্ধান্তে তার নাম রাখা হলো ইশতিয়াক আহমেদ। ভর্তি ফর্ম পূরণের সময় অবশ্য উল্টোক্রমে লেখা হয়ে যায় — আহমেদ ইশতিয়াক। প্রথমে ভেবেছিলেন বাবার বকুনি বা মার খেতে হতে পারে। কিন্তু নামটির এই বিন্যাস তাঁর কাছে ভালো লাগল। আবারও এক বিদ্রোহ — এই নামটিই তিনি চান। এবার বাবা কঠোর হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। নিজের সেই শৈশবের কথা মনে করে তিনি বলেন, নাম বদলালে যে মানুষের ভেতরের পরিবর্তন ঘটে না, সেটা তখনই তিনি বুঝেছিলেন। নতুন নামে তাঁর দুষ্টুমির স্বভাব কিন্তু একটুও কমেনি।
শুধু ব্যক্তি নয়, সংগঠনের ক্ষেত্রেও কি একই কথা প্রযোজ্য নয়? ২০০৪ সালে খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে পুলিশের বিশেষ বাহিনী হিসেবে গঠিত হয় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শুরু থেকেই এই বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন সময়ে র্যাব বিলুপ্তির দাবি এলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি আবারও শোনা যাচ্ছে র্যাব বাতিলের কথা। তবে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বাহিনীটি একই থাকবে, শুধু নাম বদলে হবে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, এই বাহিনী আর আগের মতো কাজ করবে না, নতুন আইনকানুন মেনেই চলবে।
লেখক মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ব্যক্তির ক্ষেত্রে যেমন নাম পরিবর্তনে চরিত্রের আমূল বদল ঘটে না, প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও কি একই কথা প্রযোজ্য নয়? তার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানেন, নাম বদলালেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায় না। নতুন নামেও তিনি আগের মতোই ছিলেন। তাই র্যাবের নাম বদলে এসআরবি করলেই যে তাদের কার্যক্রম বা আচরণে প্রকৃত পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। কর্তৃপক্ষের গালভরা আশ্বাসের চেয়ে বাস্তবে কাজের পরিবর্তনই এখানে মুখ্য বলে মত তাঁর।

