অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে চলমান টেস্টের প্রথম দিনে স্টিভ স্মিথকে ঘিরে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে, যা ক্রিকেটবিশ্বে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আজ প্রথম সেশনে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ২১তম ওভারে বাংলাদেশের পেসার ইবাদত হোসেনের চতুর্থ বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে স্মিথের ব্যাটের কাছ ঘেঁষে উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে জমা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে ক্যাচের আবেদন ও উদযাপনে মেতে ওঠেন বাংলাদেশি ফিল্ডাররা, কিন্তু আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা সেটিকে আউট হিসেবে সায় দেননি। এরপর দ্রুত রিভিউ নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। রিভিউ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতেই ব্যাটার স্মিথ ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটা শুরু করেন, তখন তাঁর ব্যক্তিগত রান ছিল মাত্র ৭। টিভি আম্পায়ারের কাছে আলট্রাএজ-এ কোনো 'স্পাইক' বা শব্দতরঙ্গ ধরা না পড়ায় মাঠের আম্পায়ারের নটআউট সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। এই ঘটনার পর প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ম্যাথু হেইডেন মনে করছেন, প্রযুক্তি খেলায় শুধু বিভ্রান্তিই বাড়াচ্ছে। তাঁর মতে, রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ ও কুমার ধর্মসেনার মতো সেরা আম্পায়াররা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কিন্তু প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। তিনি স্মিথের প্রতিক্রিয়াকেও বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার আরেক সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারও স্মিথের এ আচরণকে 'অদ্ভুত' বলে উল্লেখ করেছেন। মার্ক ওয়াহ বলেছেন, প্রথম স্লিপের ফিল্ডারের আবেদন খুব একটা আগ্রহী ছিল না, কিপারের আবেদনও দ্বিধান্বিত ছিল এবং তিনি কোনো শব্দও পাননি। এদিকে এই ঘটনার আগে ব্যক্তিগত ২ রানে স্লিপে তানজিদের হাতে ক্যাচ ছেড়ে দ্বিতীয় জীবন পেয়েছিলেন স্মিথ। রিভিউর পর নটআউট পেয়ে অবিশ্বাস প্রকাশ করেন ইবাদত। মাঠের জায়ান্টস্ক্রিনে তাকিয়ে থাকে বাংলাদেশ দল। শেষ পর্যন্ত সেই স্মিই ৬৭ রানে অপরাজিত থেকে অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যান। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দ্বিতীয় সেশনে ৮ উইকেটে ১৮৩ রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া। স্মিথকে ফিরিয়ে দিতে পারেননি ইবাদত, যদিও তিনি ৫ উইকেট নিয়ে দারুণ বোলিং করছেন। স্মিথের ব্যাটে বল লেগেছে কি না এবং রিভিউ শুরুর আগেই তিনি কেন ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটা শুরু করলেন, তা নিয়ে ক্রিকেটমহলে চলছে নানা বিশ্লেষণ।