ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টের প্রথম দিনেই ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে এক ইনিংসে পাঁচ বা ততোধিক উইকেট নেওয়ার কীর্তি এখন তার দখলে। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৫৫ রান খরচ করে ৬ উইকেট শিকার করেছেন তিনি, যা তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগারও বটে।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি বোলারদের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট ছিল ৪টি — টেস্টে মাশরাফি বিন মর্তুজা ৩, ওয়ানডেতে রুবেল হোসেন এবং টি-টোয়েন্টিতে তাসকিন আহমেদ ৪ উইকেট করে পেয়েছিলেন। সেই রেকর্ড এখন পেছনে ফেলে দিয়েছেন হাসান। তবে শুধু হাসানই নন, দলের সব বোলারই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের উপর চাপ তৈরি করেছিলেন। প্রথম ঘণ্টায় কোনো উইকেট না পেলেও দলগত প্রচেষ্টায় অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।

জেক ওয়েদারাল্ডকে টানা অফ স্টাম্পের বাইরে বল করে শুরুটা করেছিলেন হাসান। প্রলুব্ধ হয়েও কিছুক্ষণ টিকেছিলেন ওয়েদারাল্ড, তবে শেষ পর্যন্ত হাসানের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন। এরপর ট্রাভিস হেডকে নিজের অতিরিক্ত বাউন্স আর মুভমেন্টের সামনে অসহায় করে তোলেন তিনি। মাঝের সময়ে তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন দারুণ বোলিং করে উইকেট পেলেও হাসানের প্রথম স্পেল শেষ হয়েছিল এক উইকেটে।

মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর বোলিংয়ে ফিরে থামেননি হাসান। প্যাট কামিন্স তার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে পান তৃতীয় উইকেট, আর মিচেল স্টার্ক পরের ওভারে একই পথে সাজঘরে ফিরলে চতুর্থ উইকেট তার দখলে। চা-বিরতির পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তাকে আবারও আক্রমণে আনেন। স্টিভ স্মিথ তার বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দিলে পূর্ণ হয় পাঁচ উইকেটের অপেক্ষা। শেষ ব্যাটসম্যান নাথান লায়নও হাসানের বলেই ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। অস্ট্রেলিয়ার ধারাভাষ্যকাররাও তার বোলিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে প্রতিপক্ষের মাটিতে টেস্টে সর্বোচ্চ তিনবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড এখন হাসানের। এর আগে ২০২৪ সালে চেন্নাই টেস্টে ভারত এবং একই বছর রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনি ৫ উইকেট পেয়েছিলেন। ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেটেও তার ৫ উইকেট রয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই অর্জনটি তার ক্যারিয়ারে আলাদা হয়ে থাকবে। ইনিংস বিরতিতে অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে হাসান বলেন, এটি একটি সুযোগ ছিল। তিনি শুধু নিজের লাইন-লেংথ অনুযায়ী বল করেছেন এবং অধিনায়কের নির্দেশনা মেনে চলার চেষ্টা করেছেন। সতীর্থরা ক্রমাগত চাপ ধরে রাখায় এই সাফল্য এসেছে বলেও মনে করছেন তিনি।