যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। শুধু ট্রফি অর্জনই নয়, পুরো প্রতিযোগিতাজুড়ে নানান রেকর্ড গড়েছে লা রোহারা। দলগত ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে অসংখ্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে তারা।

স্পেনের সাম্প্রতিক ফর্ম ছিল অপ্রতিরোধ্য। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে শুরু করে টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থেকে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে তারা। এর আগে ইতালির ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার কীর্তি ছিল। এই সময়ে ২৯টি জয় এবং ৯টি ড্র নিয়ে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে দলটি।

পুরো টুর্নামেন্টে নিজেদের জালে মাত্র একটি গোল দেখেছে স্পেন। বিশ্বকাপজয়ী কোনো দলের পক্ষে এটি ইতিহাসের সর্বনিম্ন গোল হজমের রেকর্ড। পূর্ববর্তী রেকর্ডটি ছিল ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স এবং ২০১০ সালের স্পেনের, যারা দুইটি করে গোল খেয়েছিল।

আক্রমণেও ছিল দুর্দান্ত। গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত টানা ৭ ম্যাচ জিতে শিরোপা ঘরে তুলেছে তারা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর চেয়ে বেশি টানা জয়ের কীর্তি রয়েছে শুধু ব্রাজিলের (১১ ম্যাচ)। মোট ১৪টি গোল করে স্পেন নিজেদের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও ভেঙেছে। আগের রেকর্ড ছিল ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ১২ গোল।

গোলকিপার উনাই সিমন অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। তিনি আট ম্যাচের মধ্যে সাতটিতেই ক্লিন শিট রাখতে সক্ষম হয়েছেন, যা বিশ্বকাপের একক আসরে নতুন রেকর্ড। নকআউট পর্বে প্রথম গোল খাওয়ার আগে টানা ৬৫০ মিনিট অপরাজিত ছিলেন তিনি। এতে করে ওয়াল্টার জেঙ্গার ৫১৭ মিনিটের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে গেছে।

মিডফিল্ডার রদ্রি বল বিতরণে ছিলেন সেরা। পুরো টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৭৯০টি সফল পাস দিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে নিজের আগের ৬৩৮ পাসের রেকর্ডই ভেঙেছেন এই ম্যানচেস্টার সিটি তারকা।

লামিনে ইয়ামাল তরুণ হয়েও দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫টি সফল ড্রিবল করেছেন তিনি। এ তালিকায় দুই নম্বরে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে (২৮) এবং তিনে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি (২৫)। মাত্র ১৯ বছর ৬ দিন বয়সে বিশ্বকাপ জিতে চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হয়েছেন ইয়ামাল। তাঁর চেয়ে কম বয়সে এই কীর্তি গড়েছেন জুসেপ্পে বারগোমি, পেলে ও রোনালদো নাজারিও। ১৯ বছর ১৭৮ দিন বয়সে সপ্তম অবস্থানে রয়েছেন পাউ কুবারসি।

ডিফেন্সেও ছিল শক্ত অবস্থান। মার্ক কুকুরেয়া ও পাউ কুবারসি পুরো ৭৫০ মিনিট মাঠে কাটিয়েছেন। আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের মধ্যে আর্জেন্টিনার আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের সঙ্গেই এটি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ সময়।

মিকেল ওইয়ারসাবাল বল পুনরুদ্ধারে ছিলেন সেরা। তিনি প্রতিপক্ষের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৫৮ বার বল দখলে এনেছেন। তাঁর পরেই আছেন পেদ্রি ও মরক্কোর নেইল এল আইনাউই (৫১)।

গোলের দিক থেকেও দারুণ ছিলেন ওইয়ারসাবাল। এই টুর্নামেন্টে তিনি ৫টি গোল করেছেন। এর মাধ্যমে এক বিশ্বকাপে স্পেনের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে এমিলিও বুত্রাগুয়েনো এবং ২০১০ সালে ডেভিড ভিয়া ৫টি করে গোল করেছিলেন।

ফাইনালে বদলি হিসেবে নেমে জয়সূচক গোল করেছেন ফেরান তোরেস। ২০১৪ সালে মারিও গোটশের পর দ্বিতীয় বদলি খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন তিনি। ফাইনালের ইতিহাসে বদলি হয়ে গোল করা পঞ্চম ফুটবলার তোরেস।

এভাবে অসংখ্য রেকর্ডের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল স্পেন।