বিশ্বব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রণের জন্য ২০০৯ সালে প্রণীত Basel III কাঠামো তার ১৫ বছরের যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রাথমিকভাবে আর্থিক সংকট পুনরাবৃত্তি রোধে একটি বৈশ্বিক অভিন্ন মানদণ্ড তৈরি করাই ছিল এর লক্ষ্য। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজ নিজ অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক চাহিদার ভিত্তিতে Basel III-এর বিধান বাস্তবায়ন করছে, যার ফলে তিনটি স্বতন্ত্র নিয়ন্ত্রক মডেল তৈরি হয়েছে। এই বিভক্তি বিশ্বব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণের মূল লক্ষ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং একটি জটিল নিয়ন্ত্রক পরিবেশ সৃষ্টি করছে।

এই তিনটি অঞ্চলের নিয়মকানুনে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। যেমন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তারল্য প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা দিয়েছে, যেখানে যুক্তরাজ্য আরও কঠোর নিয়ম চালু করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মূলধন সংরক্ষণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করছে। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচালিত ব্যাংকগুলোর জন্য একইসঙ্গে বিভিন্ন নিয়ম মেনে চলা কঠিন হয়ে পড়ছে, যা ক্রস-বর্ডার লেনদেন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিভক্তি আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করবে। নিয়মের পার্থক্যের কারণে ব্যাংকগুলো নিয়ন্ত্রক ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে, যা আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। ২০০৮ সালের সংকটের পুনরাবৃত্তি এড়াতে Basel III তৈরি হলেও বর্তমান বিভক্তি সেই লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করছে। তবে এখনো পর্যন্ত এই বিভক্তি নিরসনে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের ধারণা, একটি একীভূত নিয়ন্ত্রক কাঠামো ছাড়া বিশ্বব্যাংকিং ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হবে। ভবিষ্যতে এই তিনটি মডেলের মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও, বাস্তবে বড় অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

সার্বিকভাবে, Basel III-এর বাস্তবায়নে এই বিভক্তি বিশ্বব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণের ভবিষ্যত নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে। এটি একটি ক্রান্তিলগ্ন চিহ্নিত করছে, যেখানে বৈশ্বিক একীভূতকরণের পরিবর্তে আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালী হচ্ছে এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।