বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতিমাপক পিএমআই সূচক জুন মাসে আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পতন দেখিয়েছে। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনে পিএমআই মান দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ৯, যা মে মাসে ছিল ৬২ দশমিক ৮। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে সূচকটি ৯ দশমিক ৯ পয়েন্ট কমে গেছে।

পিএমআই সূচকের ক্ষেত্রে ৫০-এর ওপরে থাকা অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ এবং ৫০-এর নিচে থাকা সংকোচন নির্দেশ করে। জুনের মান ৫০-এর ওপর থাকায় অর্থনীতি সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে, তবে গতি আগের চেয়ে কমেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

খাতভিত্তিক সূচক পর্যালোচনায় দেখা যায়, কৃষি খাত টানা দশম মাস সম্প্রসারিত হয়েছে। জুনে এই খাতের সূচক ৬৪ দশমিক ৮, যা মে মাসে ছিল ৭০। নতুন ব্যবসা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কর্মসংস্থান ও উপকরণ খরচ—সব উপসূচকেই সম্প্রসারণ দেখা গেলেও অর্ডার ব্যাকলগ (বকেয়া কাজের আদেশ) সংকোচন ছিল।

উৎপাদন খাত টানা দুই মাস সম্প্রসারণের পর জুনে পুনরায় সংকোচনের মুখে পড়ে। সূচক মে মাসের ৬৪ দশমিক ১ থেকে নেমে জুনে ৪৮ দশমিক ৮-এ পৌঁছেছে। নতুন কার্যাদেশ, নতুন রপ্তানি, কর্মসংস্থান, সরবরাহ ও অর্ডার ব্যাকলগের কারণে এই সংকোচন হয়েছে। তবে কারখানার উৎপাদন, উপকরণ ক্রয় ও আমদানি সামান্য বেড়েছে।

নির্মাণ খাতে মে মাসে সম্প্রসারণের পর জুনে আবার সংকোচন ধরা পড়েছে। সূচক মে মাসের ৫২ দশমিক ৯ থেকে কমে জুনে ৪০ দশমিক ২ হয়েছে। নতুন ব্যবসা, নির্মাণ কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান সংকোচনের দিকে মোড় নিলেও উপকরণ খরচ ও অর্ডার ব্যাকলগ দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে।

সেবা খাত টানা ২১ মাস সম্প্রসারিত হলেও গতি ধীর। সূচক মে মাসের ৬২ দশমিক ৩ থেকে কমে জুনে ৫৪ দশমিক ৬ হয়েছে। নতুন ব্যবসা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কর্মসংস্থান ও উপকরণ খরচ—সব ক্ষেত্রেই সম্প্রসারণ বজায় রয়েছে।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজের মতে, জুনের পিএমআই ইঙ্গিত দেয় বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে, তবে খাতভিত্তিক পার্থক্য স্পষ্ট। কৃষি ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ধীর হলেও উৎপাদন ও নির্মাণ খাত সংকোচনে রয়েছে। তিনি মনে করেন ঈদের দীর্ঘ ছুটি, বর্ষার শুরু ও ঈদ-পরবর্তী চাহিদা কমে যাওয়া জুনের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে।

ভবিষ্যৎ ব্যবসা সূচক অনুযায়ী, কৃষি, নির্মাণ ও সেবা খাতে সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর উৎপাদন খাত পুনরায় সম্প্রসারণের পথে ফিরে আসবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।