বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাথে আজ সোমবার ঢাকায় আইসিসি বাংলাদেশের সচিবালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সাক্ষাতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। আইসিসি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট নাসের এজাজ বিজয়, নির্বাহী পর্ষদের সদস্য তপন চৌধুরী, সিমিন রহমান ও আব্দুল হাই সরকার, মহাসচিব আতাউর রহমান, মহাব্যবস্থাপক অজয় বিহারী সাহা এবং উপমহাব্যবস্থাপক সৈয়দা শাহনেওয়াজ লতিকা উপস্থিত ছিলেন। ভারতীয় পক্ষ থেকে ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে ও দ্বিতীয় সচিব (অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য) গৌরব কুমার আগারওয়াল অংশ নেন।
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্র হয়ে ওঠার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের। তিনি সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে যৌথ উদ্যোগে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, বেসরকারি খাতের ভূমিকা সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা সমাধানে ভারতীয় হাইকমিশনের দরজা সবসময় খোলা রাখার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নিতে বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দ্বিপক্ষীয় পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশ ভারতে ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি এবং ভারত থেকে ৯ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।
মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ভারতের বাজারে সহজ প্রবেশাধিকার, অশুল্ক বাধা অপসারণ, পণ্যের মানদণ্ডের সমন্বয়, শুল্ক ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর জোর দেন। তিনি সার্ককে কার্যকর করা, বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) মোটর ভেহিকেলস অ্যাগ্রিমেন্ট বাস্তবায়ন, বিমসটেকের সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বিশেষ করে পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর আরোপিত অ্যান্টিডাম্পিং-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বৈঠকে বিনিয়োগ, আঞ্চলিক মূল্য শৃঙ্খল, মাল্টিমোডাল কানেক্টিভিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সীমান্তবর্তী বিদ্যুৎ-বাণিজ্য, ডিজিটাল বাণিজ্য, ফিনটেক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জলবায়ু অর্থায়ন, টেকসই শিল্পায়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।




