বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মানসিক লড়াই শুরু করে দিয়েছেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইংল্যান্ডকে এই ম্যাচের স্পষ্ট ফেবারিট হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডই সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর একটি। তার মতে, ইংলিশ সমর্থকদের এই ম্যাচ জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী থাকা উচিত। তবে হলান্ডের এই মিষ্টি কথার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে মনে করছেন ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার নিকো ও’রাইলি।
ম্যানচেস্টার সিটির এই ইংলিশ ডিফেন্ডার জানান, হলান্ডের এগুলো পুরোপুরি ‘মাইন্ড গেম’। তিনি বলেন, হলান্ড যতই ইংল্যান্ডের ওপর চাপ তৈরি করতে চান না কেন, ইংলিশ শিবির সেটা গ্রহণ করতে রাজি নয়। তবে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের ব্যাপক আলোচনার কারণে চাপ এড়ানো সত্যিই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মেক্সিকোর মাঠে জয় পাওয়ার পর ইংল্যান্ডের প্রতি আশা আরও বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ফাইনাল জিতলে সরকারি ছুটি ঘোষণার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
ও’রাইলি ও তার সতীর্থরা জানেন, হলান্ড ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের আগেও একই কৌশল প্রয়োগ করেছিলেন। সেবার তিনি ব্রাজিলকে ফেবারিট বললেও মাঠে নরওয়ে জয় পেয়েছিল। হলান্ড মাঠে কী করতে পারেন, তা ম্যানচেস্টার সিটির তিন ডিফেন্ডার ও’রাইলি, জন স্টোনস ও মার্ক গেহি ভালোভাবেই জানেন। এ কারণেই হলান্ডকে ঠেকানোর কৌশল তাদের কাছ থেকেই সবচেয়ে বেশি আসার সম্ভাবনা।
ম্যাচে আরও একটি পুনর্মিলনী ঘটতে চলেছে। নরওয়ে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড আজ আর্সেনালের সতীর্থ ডেকলান রাইস ও বুকায়ো সাকাদের বিপক্ষে নামবেন। তবে ও’রাইলি ও সাকা মনে করিয়ে দিয়েছেন, শুধু হলান্ড-ওডেগার্ডকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা করলে ভুল হবে। নরওয়ে দলে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো অনেক খেলোয়াড় রয়েছে। ব্রাজিল ম্যাচে গোলকিপার নিল্যান্ড যেমন অসাধারণ সেভ করে দলকে জিতিয়েছিলেন।
নরওয়ে এই বিশ্বকাপ জুড়ে প্রমাণ করেছে তাদের পরিকল্পনা ও কৌশল সময়ের আগেই তৈরি থাকে। ফ্রান্সের ম্যাচে মূল একাদশের প্রায় সবাইকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হলেও, আইভরি কোস্ট ও ব্রাজিলকে হারিয়ে তার যৌক্তিকতা প্রমাণ করেছে দলটি। নরওয়ের মিডফিল্ডার মর্টেন থর্সবি জানান, এই দলের সবাই এখন এক আত্মায় বাঁধা। দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলার কারণে তাদের বোঝাপড়া চমৎকার। কোচ স্তালে সলবাকেন বলেছেন, নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধ থাকাটাই এই নরওয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি।
নরওয়ের প্রতিটি জয়ের পর সমর্থকদের ভাইকিং রোর উদযাপন ভাইরাল হয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ইংল্যান্ডের কেইনরা নিশ্চয়ই চাইবেন না আজ সেই বইঠা আবার বাজতে দেখতে।




