চীনের সাংহাই হাইস্কুলের গ্র্যান্ড অডিটোরিয়ামে এক জমকালো সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হলো ৬৭তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড (আইএমও)। সোমবার বিকেল চারটায় এই আসরের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে নিয়মানুযায়ী আয়োজক দেশ চীন আইএমওর অফিশিয়াল পতাকা আগামী বছর ২০২৭-এর আয়োজক হাঙ্গেরির বুদাপেস্ট কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়। অংশগ্রহণকারী ১১৭টি দেশের মধ্যে এবার ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো ছয় সদস্যের বাংলাদেশ দলের সব প্রতিযোগী পদক অর্জন করেন। তারা ১টি রৌপ্য ও ৫টি ব্রোঞ্জ পদক জিতে মোট ১২১ নম্বর পায়, যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। এই অর্জনের ফলে ৩৯তম স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।
প্রতিযোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সাফল্য দেখিয়েছেন চট্টগ্রাম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রায়হান সিদ্দিকী। তিনি ৪২ নম্বরের মধ্যে ২৩ পেয়ে রৌপ্যপদক জিতেছেন। ব্রোঞ্জ পদকের তালিকায় রয়েছেন ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের একাদশ শ্রেণির তাহসিন খান (২২ নম্বর), রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী এম জামিউল হোসেন (২১ নম্বর), ঢাকা ইম্পিরিয়াল কলেজের একাদশ শ্রেণির জাওয়াদ হামীম চৌধুরী (১৯ নম্বর), ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির মনামী জামান (১৯ নম্বর) এবং চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির মোহাম্মদ মারজুক রহমান (১৭ নম্বর)।
দলীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চীন। তারা ২৩২ নম্বর অর্জন করে প্রথম স্থান দখল করে। যুক্তরাষ্ট্র ২০৭ নম্বর নিয়ে দ্বিতীয় ও রাশিয়া ১৯৬ নম্বর নিয়ে তৃতীয় হয়েছে। এবারের আসরে মেধার লড়াইয়ে অংশ নেয় ৬৬৬ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৪২ নম্বরের মধ্যে ২৯ বা ততোধিক নম্বর পাওয়া ৫৫ জন স্বর্ণপদক, ২৩ বা তার বেশি পাওয়া ১০৫ জন রৌপ্যপদক এবং ১৬ বা ততোধিক পাওয়া ১৮৯ জন ব্রোঞ্জপদক লাভ করেন। পূর্ণ ৪২ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জনকারী ৭ শিক্ষার্থী হচ্ছেন—যুক্তরাজ্যের অ্যালেক্স চুই, চীনের লেয়ান দেং, চে লিউ ও বোলুন ঝাং, দক্ষিণ কোরিয়ার হিয়নজুন লি এবং যুক্তরাষ্ট্রের লিয়াম রেডি ও আলেকজান্ডার ওয়াং। এর মধ্যে অ্যালেক্স চুই আইএমও ইতিহাসে টানা পাঁচবার স্বর্ণপদক জয়ের রেকর্ড গড়েন। আইএমও সভাপতি অধ্যাপক গ্রেগর ডোলিনার তাঁর হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন। অন্যদিকে নারী প্রতিযোগীদের দক্ষতার স্বীকৃতিতে রাশিয়ার আরিনা প্রোকুদিনাসহ পাঁচ মহাদেশের পাঁচজনকে ‘মির্জাখানি অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।
সমাপনী ভাষণে আইএমও সভাপতি গ্রেগর ডোলিনার শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সবাই নিজ নিজ মেধার স্বাক্ষর রেখেছে এবং এবারের আয়োজন তাদের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে। অ্যাবেল পুরস্কারজয়ী গণিতবিদ ল্যাজলো লোভাজ ভিডিও বার্তায় ২০২৭ সালের আসরে বুদাপেস্টে সবাইকে আমন্ত্রণ জানান। তাঁর সময়ে মাত্র ৮টি দেশ অংশ নিলেও বর্তমানে সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি আইএমওর অনুপ্রেরণাদায়ক ভূমিকার কথা বলেন। অনুষ্ঠান শেষে আয়োজিত গালা ডিনারে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রদর্শন করে। আগামীকাল প্রতিযোগীরা নিজ নিজ দেশে ফিরতে শুরু করবে।
উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে রোমানিয়ায় প্রথম যাত্রা শুরু করা এই আয়োজনে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বার্ষিক অংশ নেয় বাংলাদেশ গণিত দল। দল নির্বাচন ও আনুষঙ্গিক সব ব্যবস্থাপনা করে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ আইএমওতে মোট ১টি স্বর্ণপদক, ৮টি রৌপ্যপদক, ৪৫টি ব্রোঞ্জপদক ও ৪৭টি সম্মানজনক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।




