নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভার কাছারিপাড়া মহল্লায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল কুদ্দুসের বাসভবনে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার বেলা আনুমানিক দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার সময় ধারণ করা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ২৫ থেকে ৩০টি মোটরসাইকেলে একদল যুবক আবদুল কুদ্দুসের বাড়ির মূল ফটকের সামনে এসে দাঁড়ায়। এরপর তারা ফটক ও বাসভবনের জানালা-দরজায় লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে বাড়ির একাধিক জানালার কাচ এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে যায়। হামলাকারীরা প্রায় দশ মিনিট অবস্থান করে সেখান থেকে চলে যায়। ঘটনার পর ফটকের সামনে ভাঙা কাচের টুকরো ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আবদুল কুদ্দুস ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী সরকারের মৎস্য ও পশুসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে ছিলেন। ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট তিনি মারা যান। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে তার গুরুদাসপুরের বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে, আবদুল কুদ্দুসের ছেলে আসিফ আব্দুল্লাহ বিন কুদ্দুস অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তিনি ফেসবুকে বিদ্যুতের দুর্বস্থা নিয়ে নিয়মিত পোস্ট দিচ্ছিলেন। তার ধারণা, সেই আক্রোশ থেকেই বিএনপির লোকজন তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, "আমার বাবা ২৫ বছর ক্ষমতায় ছিলেন, আমরা কখনো এ ধরনের কাজ করিনি। করলে এলাকায় বিএনপি-জামায়াত বসবাস করতে পারত না।" তিনি এ ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন।

এর আগে শনিবার গভীর রাতে একই এলাকায় নাশকতার মামলায় কারাগারে থাকা পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম ওরফে সবুজ ফকিরের বাড়িতেও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দুর্বৃত্তরা বাড়ি থেকে প্রায় সাত ভরি স্বর্ণালংকার ও দেড় লাখ টাকা নিয়ে গেছে।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াজ হাসান বলেন, একটি মিছিল যাওয়ার পথে সাবেক প্রতিমন্ত্রীর বাড়িতে হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে এ ঘটনায় এখনও কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেননি। তিনি জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।