জনপ্রিয় সফটওয়্যার অ্যাডোবি এবং জুমের হালনাগাদ সংস্করণের নাম ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করছে একদল সাইবার অপরাধী। সিকিউরোনিক্সের গবেষকদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, এই কৌশলে ভিজ্যুয়াল বেসিক স্ক্রিপ্ট, ব্যাচ ফাইল, ডট নেট প্রোগ্রাম এবং এইচটিএমএল-নির্ভর ফিশিং পেজের মাধ্যমে কম্পিউটারে ক্ষতিকর কোড ঢোকানো হচ্ছে। একবার আক্রান্ত হলে হ্যাকাররা স্ক্রিনকানেক্ট প্রযুক্তির সাহায্যে ব্যবহারকারীর স্ক্রিনের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়।
তদন্ত শুরু হয় একটি সক্রিয় উইজিডিএভি সার্ভারের খোঁজ পাওয়ার পর। এই সার্ভারটি ক্ষতিকর ফাইল বিতরণের পাশাপাশি স্ক্রিনকানেক্টের মাধ্যমে আক্রান্ত ডিভাইসের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। গবেষকরা স্ক্রিনকানেক্টের এমএসআই ও এক্সই ফাইলগুলো বিশ্লেষণ করে মোট তিনটি পৃথক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ (সি২) অবকাঠামো শনাক্ত করেছেন। এই অবকাঠামোগুলো সাধারণত সফটওয়্যার আপডেট, নথি পর্যালোচনা এবং নথি দেখার সফটওয়্যারের ছদ্মবেশে কাজ করছে।
হামলার প্রাথমিক ধাপে লক্ষ্য করে পাঠানো হয় ফিশিং ইমেইল। ইমেইলে থাকা ভিবিস্ক্রিপ্ট ফাইলটি চালানোর জন্য ব্যবহারকারীকে উৎসাহিত করা হয়। তবে স্ক্রিপ্টটি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিকর কার্যক্রম শুরু হয় না; বরং এটি প্রথমে কম্পিউটারে নিরাপত্তা সফটওয়্যার সক্রিয় আছে কি না তা যাচাই করে। এরপর ধীরে ধীরে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে।
সিকিউরোনিক্সের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সময়ের সঙ্গে হ্যাকারদের কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। প্রথমদিকে তারা এনক্রিপ্ট করা ভিবিস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করত, পরে উইন্ডোজ ডিফেন্ডারকে অকার্যকর করার মতো আক্রমণাত্মক পদ্ধতি বেছে নেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তারা আবারও গোপন কৌশলে ফিরে এসেছে। এখন তারা এন্ডপয়েন্ট নিরাপত্তা এড়াতে নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করে এবং এনক্রিপ্ট করা ফাইল ব্যবহার করে থাকে।
এই ধরনের হামলা প্রতিরোধে সিকিউরোনিক্স বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে। অপরিচিত উৎস থেকে পাওয়া এমএসআই ফাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ মানার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা সফটওয়্যারে অস্বাভাবিক পরিবর্তন, সন্দেহজনক পাওয়ারশেল কার্যক্রম এবং বৈধ রিমোট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের অস্বাভাবিক ব্যবহারের ওপর নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই হামলার সঙ্গে কোনো পরিচিত সাইবার অপরাধী গোষ্ঠীর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।




