নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের আমগড়া এলাকায় একটি সর্বজনীন কবরস্থানকে ঘিরে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকালে এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারী-শিশুসহ অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলেও জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমগড়া বাজারের নিকটবর্তী ১৪৪ শতক জমির ওপর নির্মিত কবরস্থানটি প্রায় ৮০ বছর ধরে পানেশ্বরপাড়া, আমগড়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা ব্যবহার করে আসছেন। কবরস্থানটির মালিকানা, দেখভাল এবং ব্যবহার নিয়ে আমগড়া ও পানেশ্বরপাড়া গ্রামবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। পানেশ্বরপাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, কবরস্থানটির জমি তাদের নিজেদের। অপরদিকে আমগড়ার লোকজন মনে করেন, এটি সরকারি জমির ওপর অবস্থিত।

সড়কের পাশে অবস্থিত কবরস্থানটির আশপাশে বেশ কিছু দোকানপাটও রয়েছে। সম্প্রতি পানেশ্বরপাড়ার কিছু মানুষ সেখানে নতুন করে আরও কয়েকটি দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে আমগড়ার বাসিন্দারা বাধা দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিসেরও আয়োজন করা হয়েছিল, কিন্তু দুই পক্ষই সেই সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করে।

সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে সকালে, যখন পানেশ্বরপাড়ার বাসিন্দারা বিরোধপূর্ণ ওই স্থানে একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের চেষ্টা চালান। আমগড়ার বাসিন্দারা তাতে বাধা দিলে দু'পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে কয়েকশ মানুষ লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এই সংঘর্ষের সময় এলাকার অন্তত ১১টি দোকান ও বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে।

কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, বেলা পৌনে ৩টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬৮ জন আহত রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে গুরুতর আহত অবস্থায় আমগড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম, জীবন মিয়া, কল্পনা আক্তার, রাজীব মিয়া এবং পানেশ্বরপাড়ার ফারুক মিয়া, জীবন রহমানসহ মোট আটজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বাকি আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখনও সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তিনি সংঘর্ষে ৬০ থেকে ৭০ জন আহত এবং বেশ কিছু দোকান ও বাড়িঘরে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।