শনিবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। টমাস টুখেলের দলের জন্য এটি নিছক একটি নকআউট ম্যাচ নয়; বরং ১৯৬৬ সালের পর প্রথম ফাইনালে ওঠার দুর্লভ সুযোগ। পথ সহজ নয়, তবে ইংলিশ শিবিরে আত্মবিশ্বাস জোগানোর মতো বেশ কয়েকটি শক্ত কারণ রয়েছে।

প্রথমত, আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ পনেরোর কোনো দলের মুখোমুখি হয়নি। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে তারা কেপ ভার্দে, মিসর ও সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিতে এসেছে। লিওনেল স্কালোনির দলের জন্য ইংল্যান্ডই হবে প্রথম বড় পরীক্ষা। অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলো যদি আর্জেন্টিনাকে চাপে ফেলতে পারে, তাহলে চার নম্বর র‌্যাঙ্কিংয়ের ইংল্যান্ড কেন পারবে না—এই যুক্তি টুখেলের দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে।

দ্বিতীয়ত, গোলের সুযোগ তৈরিতে ইংল্যান্ড পুরো টুর্নামেন্টে এগিয়ে রয়েছে। সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮টি ‘বিগ চান্স’ তৈরি করেছে তারা। হেড, কাটব্যাক কিংবা দ্রুত পাল্টা আক্রমণ—বিভিন্ন মাধ্যমেই প্রতিপক্ষের বক্সে হানা দিচ্ছে ইংলিশ ফরোয়ার্ডরা। ফলে আর্জেন্টিনার রক্ষণ সামান্য ফাঁক দিলেও তার পুরো সুবিধা নিতে পারবে ইংল্যান্ড।

তৃতীয়ত, আর্জেন্টিনার রক্ষণ এবারের আসরে তেমন শক্তিশালী নয়। নকআউট পর্বের তিন ম্যাচে তারা মোট পাঁচটি গোল হজম করেছে। শেষ ৩২-এ কেপ ভার্দে ও কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে গিয়ে অতিরিক্ত সময় নিতে হয়েছে। শেষ ষোলোয় মিসরের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে পিছিয়েও পড়েছিল দলটি। শট সেভের হার (৫৭%) সেমিফাইনালে ওঠা দলগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন—প্রতিপক্ষ সুযোগ পেলেই রক্ষণকে চাপে ফেলতে পেরেছে। এই দুর্বলতাই ইংল্যান্ডের জন্য বড় অস্ত্র হতে পারে।

চতুর্থত, হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের জুটি দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। দুজনই এখন পর্যন্ত ছয়টি করে গোল করেছেন। বেলিংহাম শেষ ষোলোয় মেক্সিকো ও কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করে টানা দুই নকআউটে গোল করার ম্যারাডোনার কীর্তি স্পর্শ করেছেন। কেইনও শেষ ৩২-এ ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর শেষ মুহূর্তের জোড়া গোলে দলকে জিতিয়েছেন। নকআউটের চাপের মুহূর্তে এই জুটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। একজন সুযোগ তৈরি করেন, আরেকজন শেষ করেন—এই সমন্বয় যেকোনো রক্ষণের জন্যই ভোগান্তির কারণ।

সব মিলিয়ে, বর্তমান ফর্ম ও পরিসংখ্যান ইংল্যান্ডের পক্ষে কথা বলছে। তবে মাঠের খেলা পর্যন্ত সবকিছুই অনুমান। ৬০ বছরের অপেক্ষা শেষ করতে টুখেলের শিষ্যরা কতটা সফল হন, সেটাই দেখার।