প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে গত রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, মোট ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামালের স্ত্রী ও মেয়ের মালিকানাধীন অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ এবং অরবিটাল ইন্টারন্যাশনাল। এছাড়াও বাতিল করা হয়েছে ঢাকা-২০ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর স্নিগ্ধা ওভারসিজ লিমিটেড, এবং ফেনী-৩ আসনের সাবেক এমপি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদউদ্দিন চৌধুরীর ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনালের লাইসেন্স। তালিকায় আরও রয়েছে জনশক্তি খাতের আলোচিত ব্যবসায়ী নূর আলীর ইউনিট ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেড ও মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটের সদস্য রুহুল আমিন ওরফে স্বপনের ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালসহ আরও বহু প্রতিষ্ঠান। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৩৮৫, ৩৮৬, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় আদালতে এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল ও গৃহীত হওয়ায় অভিবাসী আইন অনুযায়ী লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনোটি কয়েক দশকের পুরোনো। লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ এবং গুরুতর অপরাধ বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করলে লাইসেন্স বাতিল করা হয়। বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মেসার্স শাহীন ট্রাভেলস, আরভিং এন্টারপ্রাইজ, হৃদয় ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল, জাহরাত ইন্টারন্যাশনাল, ৪ সাইট ইন্টারন্যাশনাল, বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল, আকাশভ্রমণ লিমিটেড, কিউ কে কুইক এক্সপ্রেস লিমিটেড, ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেড, জিএমজি ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড, সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল, দ্য সুপার ইস্টার্ন লিমিটেড, এলিগ্যান্টস ওভারসিজ লিমিটেড, মিডওয়ে ওভারসিজ লিমিটেড, মদিনা ওভারসিজ, আল খামিস ইন্টারন্যাশনাল, নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল, দামাশি করপোরেশন লিমিটেড, গ্যালাক্সি করপোরেশন, সুলতান ওভারসিজ, প্রভাতী ইন্টারন্যাশনাল, মানিসপাওয়ার করপোরেশন, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ, নাতাশা ওভারসিজ, অপরাজিতা ওভারসিজ, স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, জান্নাত ওভারসিজ, বিএম ট্রাভেলস, বিএনএস ওভারসিজ লিমিটেড, রুবেল বাংলাদেশ লিমিটেড, ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেট সার্ভিসেস লিমিটেড, আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড কনসালট্যান্সি, ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল, থানেক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, জেজি আলফালাহ ম্যানেজমেন্ট, ইমপিরিয়াল রিসোর্সেস লিমিটেড, পি আর ওভারসিজ লিমিটেড, এমইএফ গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেড ও অনন্য অপূর্ব রিক্রুটিং এজেন্সি। উল্লেখ্য, প্রায় চার বছর বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালের জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলে। তখন কর্মী পাঠানোর জন্য রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচনের দায়িত্ব ছিল মালয়েশিয়া সরকারের কাছে। বাংলাদেশ থেকে তাদের কাছে ১ হাজার ৫২০টি এজেন্সির তালিকা পাঠানো হয়। মালয়েশিয়া চক্র নামে পরিচিত একটি ব্যবস্থায় সব রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী পাঠানোর সুযোগ পায় না; সুযোগটি পায় মাত্র কয়েকটি। শুরুতে চক্রের সদস্য ছিল ২৫টি এজেন্সি, পরে তা বাড়িয়ে ১০০টি করা হয়। চক্রে নাম ঢোকাতে প্রতিটি এজেন্সি থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ খরচ ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা হলেও মালয়েশিয়া যেতে একজন বাংলাদেশি কর্মীকে গড়ে ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে। দেড় বছরে সাড়ে চার লাখ কর্মী পাঠিয়ে ২৪ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে এই খাতে। চক্রের অনিয়মের কারণে ২০২৪ সালের জুনে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। অনুমোদিত কর্মীদের জন্য দেশটিতে যেতে সর্বশেষ সময় ছিল ৩১ মে, ২০২৪। এরপর দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হলেও এখনো শ্রমবাজার চালু হয়নি।
সাবেক আওয়ামী লীগ এমপিদের পাঁচটি এজেন্সিসহ ৪৯ রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল
মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে অনিয়মের অভিযোগে সাবেক চার এমপির পাঁচটি এজেন্সিসহ ৪৯ রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। আদালতে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ গৃহীত হওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।




