শুক্রবার রাজধানী ঢাকার গুলশানে অবস্থিত একটি পাঁচ তারকা হোটেলে দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত মিলনমেলার মধ্য দিয়ে শিশুসাহিত্যিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরের নতুন গ্রন্থ ‘প্রিয়জন আপনজন’-এর প্রকাশনা উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। অন্যপ্রকাশ থেকে বের হওয়া এই বইটিতে লেখক দেশের চারুকলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের একশো বিশিষ্ট মানুষের সঙ্গে তার নিবিড় অভিজ্ঞতা, স্মৃতিচারণ ও মূল্যায়নকে পৃষ্ঠায় ফুটিয়ে তুলেছেন।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন ফারজানা ব্রাউনিয়া। আলোচনার এই পর্বে অংশ নেন স্বয়ং লেখক ফরিদুর রেজা সাগর, খ্যাতনামা কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, একাধারে অভিনেতা, নির্মাতা ও চিত্রকর আফজাল হোসেন এবং প্রকাশনা সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম। বক্তব্যে আফজাল হোসেন দুঃখ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন যে, আমরা এ দেশের অতি সাম্প্রতিককালের মানুষগুলোকেও সহজে চিনি না। তাঁর দৃষ্টিতে, বর্তমান বইটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক— তা হলো এক প্রজন্মকে অন্য একটি প্রজন্মের নিকট পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কাজ, যেখানে সুস্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে কোন ব্যক্তিরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে কতটা উজ্জ্বল ছিলেন। তিনি আরও অভিমত ব্যক্ত করেন, শতজনকে নিয়ে লেখা এই কাজটি ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
অপর দিকে কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলন ‘প্রিয়জন আপনজন’ গ্রন্থটিকে প্রকাশনা জগতের জন্য একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রয়াস বলে আখ্যায়িত করেছেন। তার বদ্ধমূল বিশ্বাস, ফরিদুর রেজা সাগরের লেখক হিসেবে এ রচনাটি একটি অসাধারণ সৃষ্টি হিসেবে চিহ্নিত হবে।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানটি কেবলই আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; জৌলুশ ছিল উপস্থিত অতিথিদের সমারোহেও। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণসাক্ষরতার আন্দোলনের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, প্রবীণ অভিনেত্রী দিলারা জামান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ, অভিনেতা আবুল হায়াত, চলচ্চিত্র নির্মাতা সোহেল আরমান, অভিনেতা ওমর সানি এবং অভিনেত্রী আফসানা মিমি। আরও উপস্থিত ছিলেন লেখকের পারিবারিক সদস্যরাও—ফরিদুর রেজা সাগরের জীবনসঙ্গী ও উদ্যোক্তা কনা রেজা এবং তার বোন ও রন্ধনশিল্পী কেকা ফেরদৌসী। সংগীত জগতের প্রতিনিধিরাও সেখানে উপস্থিত থেকে আয়োজনটিকে পূর্ণতা দিয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন কণ্ঠশিল্পী কোনাল ও অনিমা রায়সহ অন্যান্য গুণীজনেরা।

বইটির আনুষ্ঠানিক আবরণ উন্মোচনের পর মঞ্চে আহ্বান জানানো হয় কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনকে। প্রায় এক ঘণ্টার ব্যাপী তার সংগীত পরিবেশনায় সারা আয়োজন জমজমাট হয়ে ওঠে। একের পর এক গাওয়া তার জনপ্রিয় সংগীত গুলোতে মুগ্ধ হয়ে যায় সমাগত অতিথিরা। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে কিংবদন্তি এই শিল্পীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সম্মান জানানো হয়।