ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, গত জুলাইয়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের সময় যেসব শিক্ষার্থী তাঁর বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন, তাদের শাস্তির পরিবর্তে ক্ষমা করে দেওয়ার পক্ষে তিনি। তার দাবি, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা এবং বারবার আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য করার মাধ্যমে চলমান অচলাবস্থার কোনো নিষ্পত্তি হবে না। সম্প্রতি তিনি একে ‘পথভ্রষ্ট সন্তান’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সঠিক পথে পরিচালনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
মোদির তৃতীয় মেয়াদকালের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটটি গত জুলাইতে তীব্র আকার ধারণ করে, যখন জাতীয় স্তরের একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষায় বসতে হয়। এই ঘটনা ভারতীয় যুব সমাজের মধ্যে পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবজনিত গভীর অসন্তোষকে প্রকাশ ঘটায়। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে কিছু শিক্ষার্থী নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে আপত্তিকর স্লোগান দেয়। এর জেরে কর্তৃপক্ষ শত শত আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনে মামলা রুজু করে।
গত শুক্রবার রাতে সামাজিক মাধ্যমের একটি ভিডিও পোস্টে মোদি মন্তব্য করেন, ‘তাদের শাস্তি দেওয়া, আদালতে টেনে নেওয়া বা সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার মধ্য দিয়ে কোনো পরিবর্তন আসবে না।’ কিন্তু, আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ‘ককব্রোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) গত সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, বিভিন্ন রাজ্যে মামলা প্রত্যাহারের সরকারি আশ্বাস সত্বেও 'শত শত' শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। দলটির দাবি, প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
এই ইস্যুটি মোদি প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নরম আচরণের ঘোষণা একদিকে যেমন সংকট প্রশমনের কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে মাঠপর্যাদে চলতে থাকা গ্রেপ্তার ও মামলার ঘটনায় এই বার্তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।




