সম্প্রতি সমাপ্ত ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা নেমেছে। ৪৮টি দল ও ১০৪টি ম্যাচের এই বিশাল আসরে কোটি কোটি ভক্তের আবেগ ও উত্তেজনার অবসান ঘটেছে গত রাতে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালের মাধ্যমে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেন ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছে। এই টুর্নামেন্ট নিয়ে নিয়মিত বিশ্লেষণ করেছেন দেশের শীর্ষ ফুটবল কোচ মারুফুল হক। বিশ্বকাপ শেষে তিনি তাঁর দৃষ্টিতে সেরা একাদশ নির্বাচন করেছেন, যেখানে জায়গা পেয়েছেন নবাগত থেকে চেনা তারকারা।

কোচ মারুফুল হক আক্রমণাত্মক ৪-৪-৩ ফরমেশন বেছে নিয়েছেন। এই ফরমেশনে দুজন আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গোলরক্ষক হিসেবে স্পেনের উনাই সিমন নন, বরং কেপ ভার্দের ভোজিনিয়াকে রাখা হয়েছে। কোচের মতে, ভোজিনিয়ার সামনে সিমনের মতো শক্তিশালী ডিফেন্ডার ছিল না, অথচ তিনি সব পরিস্থিতিতে দলকে নির্ভরতা দিয়েছেন। সিমনকে ততটা পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়নি।

রক্ষণভাগে ডান দিকে মরক্কোর আশরাফ হাকিমিকে স্থান দেওয়া হয়েছে। স্পেনের পেদ্রো পোরো বিবেচনায় থাকলেও হাকিমিকে বেশি গতিময় ও আক্রমণাত্মক মনে হয়েছে। সেন্টারব্যাকে জায়গা করে নিয়েছেন স্পেনের পাউ কুবারসি, যিনি বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড় হয়েছেন। দ্রুত রিকভারি তাঁর বড় শক্তি। পাশাপাশি ফ্রান্সের দায়োত উপামেকানো সেন্টারব্যাকে রক্ষণ সামলে আক্রমণে সহায়তায় ভালো করেছেন। লেফটব্যাকে স্পেনের মার্ক কুকুরেয়া আক্রমণে বেশি থাকলেও প্রয়োজনে দ্রুত রক্ষণে ফিরতে পারেন এবং কভারিংয়ে দারুণ।

মাঝমাঠের হোল্ডিং পজিশনে জায়গা পেয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় (গোল্ডেন বল) রদ্রি। কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট না করলেও পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ও খেলার গতি নিয়ন্ত্রণে তাঁর জুড়ি নেই। সেন্টার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম গোল ও গোল করানো—দুটোতেই পারদর্শী। 'বিটুইন দ্য লাইন' বল গ্রহণে দক্ষ। ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসেও একই পজিশনে নির্ভরযোগ্য। ডান ও বাঁ প্রান্ত থেকে খেলা তৈরিতে সিদ্ধহস্ত, প্রয়োজনে মেসি-এমবাপ্পের সঙ্গেও জায়গা বদল করতে পারেন।

আক্রমণভাগের ডান পাশে লিওনেল মেসির বিকল্প নেই বললেই চলে। সেন্টার ফরোয়ার্ডে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনকে পছন্দ করেছেন কোচ, যিনি গোলের পাশাপাশি দলের বিল্ডআপেও ভূমিকা রেখেছেন। বাঁ পাশে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে—এই বিশ্বকাপে ১০ গোল ও সর্বকালের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২২ গোলের মালিক। অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে লিওনেল মেসিকে, যাঁর নেতৃত্বের ক্ষমতা বিশ্বকাপে স্পষ্ট হয়েছে। কোচ হিসেবে ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশমকে বেছে নেওয়া হয়েছে, কারণ তিনি খেলোয়াড়দের পজিশন অনুযায়ী স্বাধীনতা দিয়ে থাকেন।