সম্প্রতি কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন ‘ক্লে ইমেজ’ নামের হাতে তৈরি সিরামিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রেহানা আক্তার। গ্যাসের তীব্র সংকটে দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন থেমে থাকায় এখন ব্যবসার অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়েছে।
প্রায় দুই দশক—২২ বছর—ধরে তিনি এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। মাটির তৈরি সিরামিক সামগ্রীর জন্য প্রতিষ্ঠানটি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পরিচিতি লাভ করেছে। গত জুন মাসে চীন থেকে প্রায় দুই বছরের বড় একটি রপ্তানি চুক্তি পাওয়া গিয়েছিল। তবে পণ্য পোড়ানোর (ফায়ারিং) জন্য অপরিহার্য গ্যাসের সরবরাহ এখন সম্পূর্ণ ব্যাহত।
২০২৪ সালের পর থেকে পাইপলাইনের গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। বিকল্প হিসেবে তিনি পাম্প থেকে সিএনজি কিনে ব্যবহারের ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, যাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে সেই সরবরাহও অনিয়মিত। পাম্পে চাপ কম থাকায় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি গ্যাসের যোগান একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। এক লাখ টাকা অগ্রিম দিয়েও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না।
ফলে প্রায় ছয় মাস ধরে কারখানায় ফায়ারিং কার্যত বন্ধ। দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০টি পণ্য তৈরির সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এখন উৎপাদন শূন্য। অবশিষ্ট মালামাল বিক্রি করে এবং ব্যাংকের জমাকৃত অর্থ ভেঙে এতদিন ১৩ জন অভিজ্ঞ কর্মচারীর বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু নতুন করে বিনিয়োগের কোনো সামর্থ্য অবশিষ্ট নেই। ব্যাংকঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে হচ্ছে, অথচ আয়ের পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ। অবশেষে কয়েক দিন আগে কারখানা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুত করা ১৩ জন কর্মচারীকেও বিদায় জানাতে হয়েছে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (এসএমই) দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৌলিক সেবার সংকটে আজ ছোট উদ্যোক্তারা নিঃস্ব হতে বসেছেন। একটি উদ্যোগ গড়ে তুলতে বছরের পর বছর পরিশ্রম করতে হয়, কিন্তু নীতিগত সহায়তার অভাবে তা ধ্বংস হতে এক মুহূর্তও লাগে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে টিকে থাকার জন্য ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা বা তহবিলের প্রয়োজনীয়তা তিনি জোর দিয়ে তুলে ধরেন।
নীতিনির্ধারকদের পরামর্শ অনুযায়ী তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসে (এলপিজি) রূপান্তরের কথা বলা হলেও, একটি ছোট শিল্পের পক্ষে হঠাৎ করে আরও ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা অসম্ভব বলে তিনি প্রশ্ন তোলেন। বিদেশ থেকে পণ্যের ক্রয়াদেশ হাতে থাকা সত্ত্বেও কেবল গ্যাসের অভাবে কারখানা বন্ধ করে দিতে হওয়ায় তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। সরকারের প্রতি তার অনুরোধ—রাস্তাঘাটের খোঁড়াখুঁড়ির চেয়ে উদ্যোক্তাদের বাঁচিয়ে রাখা এবং কর্মসংস্থান রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।




