বৃহস্পতিবার স্পেসএক্সের প্রাথমিক কর্মী ও প্রাক-আইপিও বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা প্রায় এক বিলিয়ন শেয়ারের লক-আপ মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বর্তমান বাজারমূল্যে এই শেয়ারগুলোর সম্মিলিত পরিমাণ প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার, যা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) পুরো আয়তন থেকেও বড় একটি সরবরাহগত ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের একাংশ এই বিপুল পরিমাণ শেয়ার বাজারে আসায় স্টকটির দর কমে যেতে পারে বলে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করলেও, প্রতিষ্ঠানটি নীরবে এই সংকটের মোকাবিলার প্রস্তুতি সেরে রেখেছিল।

ওয়াল স্ট্রিটের পর্যবেক্ষকরা মন্তব্য করেছেন যে, যে-কোনো আইপিওর জন্যই লক-আপ মেয়াদ শেষ হওয়ার এই মুহূর্তটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এর ফলে স্টকের মূল্যের ওপর চাপ তৈরি হয়। তবে স্পেসএক্স ও তাদের ব্যাংকাররা একটি ব্যতিক্রমী কৌশল নেয়, যার অধীনে কোম্পানিটি তালিকাভুক্তির মাত্র ২৫ দিনের মধ্যেই সিআরএসপি, এফটিএসই রাসেল, এমএসসিআই ও ন্যাসড্যাক — এই চারটি সূচকে স্থান করে নেয়। বিশ্লেষক অ্যাডম লুরিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল কিছুটা ‘জামিনদারি ব্যবস্থার’ মতো। এই পন্থায় স্পেসএক্স শেয়ারের প্যাসিভ তহবিল থেকে জোরালো চাহিদা নিশ্চিত করেছে, যা লক-আপ-পরবর্তী সরবরাহের চাপকে অনেকটাই প্রশমিত করেছে।

জেপিমর্গানের অনুমান অনুযায়ী, শুধু ন্যাসড্যাক সূচকে অন্তর্ভুক্তির ফলেই প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের স্পেসএক্সির শেয়ার প্যাসিভ একাউন্টসমূহে স্থানান্তরিত হয়। এই প্রসঙ্গে লুরিয়া বলেন, তালিকাভুক্তির আগেই সূচকে যাওয়ার এই দ্রুত পথ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এর মাধ্যমেই সরবরাহ বাড়ার ঠিক সময়টিতে যথেষ্ট চাহিদা সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে। এই কৌশল লক-আপ পরবর্তী বিক্রির চাপকে একধরনের কুশন সরবরাহ করেছে, যা অন্যথায় পাওয়া যেত না।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় দূরদর্শী ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লাভবানও হয়েছেন। হেজ ফান্ড মিলেনিয়ামের দুটি ট্রেডিং দল শুধু জুন মাসেই এই 'সূচি পুনর্বিন্যাসকরণ বাণিজ্য' থেকে প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করে। লুরিয়া আরও মনে করেন, প্রত্যেক কর্মী বা প্রাথমিক বিনিয়োগকারী বৃহস্পতিবারই তাড়াহুড়া করে বেরিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজবেন না। বিনিয়োগ ব্যাংকগুলো প্রায়ই দীর্ঘমেয়াদি ধারকদের পক্ষপাতিত্ব করে, এবং যদি কোনো বিনিয়োগকারী প্রাক-আইপিও শেয়ার পাওয়ার সুযোগ নিয়ে 'অসৌজন্যমূলক আচরণ' করে, তবে ভবিষ্যতে আইপিওগুলোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

সামগ্রিকভাবে, ওয়াল স্ট্রিট ইলন মাস্কের দূরদর্শিতা ও প্রভাবের প্রতি সম্মান জানিয়ে সতর্ক রয়েছে। মাস্ক তার সর্বশেষ মুনাফা প্রতিবেদনে বলেছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্পেসএক্সের বার্ষিক আয়ের হার (রান রেট) ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। তবে রিপোর্টটিতে আরও স্পষ্ট হয়েছে, ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি এখন বিশাল পরিমাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল, যার মধ্যে একটি একক প্রান্তিকে ১৫ বিলিয়ন ডলার খরচের কথা রয়েছে। একইসঙ্গে স্টারলিংকের গতি শ্লথ হয়ে আসা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রতিবেদনের পর বুধবার শেয়ারের দর আরও ৯% কমেছে, আইপিওর পর থেকে এর মূল্য অর্ধেক হয়ে গেছে।

তবু ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকেরা আস্থা হারাননি। জেপিমর্গান এমনকি তাদের মূল্যমানের লক্ষ্যমাত্রা ২২০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৪০ ডলার নির্ধারণ করেছে। এই প্রসঙ্গে লুরিয়া বিনিয়োগ সম্প্রদায়ের একটি বহু পুরনো মন্ত্র উল্লেখ করেন: ‘আপনি কখনোই ইলনের বিরুদ্ধে বাজি ধরেন না।’ টেসলার বিরুদ্ধে বাজি ধরে যেসব বিনিয়োগকারী বিপুল অঙ্ক হারিয়েছেন, তারই প্রেক্ষিতেই এটি বিনিয়োগ মহলের জন্য চিরন্তর সত্য হিসেবে বিবেচিত।