বুধবার ফিলিপস ৬৬ ঘোষণা করে যে তারা বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের তৃতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। এই দাবিটি এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের অন্যতম বৃহৎ তেল কোম্পানি এক্সন মবিল ও শেভরনের কঠোর সমালোচনা করছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরান যুদ্ধের সুযোগে এই দুই জায়ান্ট সংস্থা “অতিরিক্ত মুনাফা” করছে। যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে যে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে, তা থেকেই এই মুনাফার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তার ধারণা।

ফিলিপস ৬৬-এর এই স্বীকৃতি একদিকে যেমন বিশ্বের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া ভenezুয়েলার তেল বাণিজ্রের জটিল চিত্র উন্মোচিত করে, তেমনি মার্কিন জ্বালানি খাতের মধ্যে চলমান টানাপড়েনের প্রতিধ্বনি তোলে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে আক্রমণ করলেও ফিলিপস ৬৬ এক ভিন্ন ধরনের বার্তা দিল, যা তাদের নিজস্ব তেল সরবরাহ শৃঙ্খলে ভেনেজুয়েলার গুরুত্বকে প্রমাণ করে।

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘর্ষের ফলে বৈশ্বিক তেলের সরব্রাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দাম বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। এই অবস্থাকে পুঁজি করে বড় তেল কোম্পানিগুলো বিপুল মুনাফা অর্জন করছে বলে ট্রাম্প প্রশাসন বারংবার ইঙ্গিত দিয়ে আসছে। তার তরফ থেকে এক্সন ও শেভরনকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফিলিপস ৬৬ যখন দাবি করে যে তারা ভেনেজুয়েলার একটি প্রধান ক্রেতা, তখন এটি আন্তর্জাতিক নিষেধা এবং মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির জটিল অঙ্ককেই সামনে নিয়ে আসে। ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে পরোক্ষে বা প্রত্যক্ষভাবে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নির্ভরশীল, তা এই ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তেল কোম্পানির বিরুদ্ধে সাধারণ ভোক্তার ক্ষোভকে কাজে লাগানোর এক কৌশল। অন্যদিকে ফিলিপস ৬৬-এর মতো অন্যান্য কোম্পানি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বাজারে আলাদা বার্তা দিতে চাইছে। ফলে ইরান যুদ্ধ, তেলের বাজার, এবং মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি – সব মিলিয়ে জ্বালানি খাতের এই বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আভাস মিলছে।