জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার যুবক রিমেল মিয়া। কিন্তু রাশিয়ায় গিয়ে এক বছর পর পরিবার জানতে পারল, তাদের সন্তান ইউক্রেনের একটি বন্দিশিবিরে আটক। দালালের খপ্পরে পড়ে এবং বাধ্য হয়ে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে বন্দী হন রিমেল। এখন তার ফেরার কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছেন না চরম দারিদ্রের মধ্যে থাকা বাবা-মা।

উত্তর মরুয়াদহ গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ আলী ও রেখা বেগমের ছেলে রিমেল ২০২২ সালে এসএসসি পাস করার পর টাকার অভাবে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে পারেননি। বেকারত্বের অভিশাপ ঘোচাতে ২০২৫ সালের মার্চে এক দালালের মাধ্যমে রাশিয়া যান তিনি। তার বাবা জানান, পৈতৃক জমি বিক্রি এবং চড়া সুদে সাত লাখ টাকা ঋণ করে ছেলের বিদেশ যাওয়ার খরচ জোগাড় করা হয়েছিল। শুরুর তিন মাস রিমেল এক লাখ ৩০ হাজার টাকা বাড়িতে পাঠানোর পর হঠাৎ করেই পরিবারের সঙ্গে তার সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

শুক্রবার (১ আগস্ট) ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে রিমেল-সহ আরও তিনজন বাংলাদেশির ইউক্রেনে যুদ্ধবন্দী হওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে আসে। স্থানীয় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদন দেখিয়ে রিমেলের স্বজনদের বিষয়টি জানান। তার বাবা সৈয়দ আলী ব্যথিত কণ্ঠে বলেন, “১০-১১ মাস ধইরা ব্যাটার কোনো খবর পাচ্চিনে। ফোনোত কথা হয় না। কেউ কোনো সন্ধান দিতাচে না। একন জানলাম, ব্যাটা ইউক্রেনের বন্দি ক্যাম্পে আছে। রাশিয়া থাকা কী করে ব্যাটা ইউক্রেন গেল, জানিনে।”

রিমেলের মা রেখা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ছেলের জন্য আর কোনো অর্থ চান না তারা, শুধু ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আকুলতা। তিনি বলেন, “সুখের নেশায় ব্যাটাক বিদেশ পাঠাচিনো। কিন্তু সুখ তো হলোই না, কষ্ট আরও বাইড়া গেল। সরকার যেন আমার বুকের ধনট বুকোত ফিরি দেয়।” স্থানীয় সোহাগঞ্জ বাজারে খিলি পান বিক্রি করে মাসে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা আয় করেন বাবা সৈয়দ আলী, যা দিয়ে দিয়েনি শোধ করেও সংসার চলে না। তার বড় ছেলে ঢাকায় চাকরি করলেও, সৌদিপ্রবাসী আরেক ছেলের পাঠানো টাকায় কোনোমতে চলছে নাতনির ভরণপোষণ।

রিমেলের এম মুক্তি ও ফিরে আসার বিষয়ে স্থানীয় জনগণও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ছেলের করুণ অবস্থায় কথা ভেবে বাবা-মা-র কান্নায় তাদের ঘুম আসছে না। এমমধ্যে সুদ বেড়ে সাত লাখ টাকা এখন নয় লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন বাবা সৈয়দ আলী, যা দুশ্চিন্তাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।