সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর ওই ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বর্তমানে তাঁর বয়স ৭৭ বছর। বুধবার রাতে বনানীর একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা বিভাগ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পলাতক আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কোন আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সশস্ত্র সেনা কর্মকর্তাদের একটি দলের সঙ্গে ছিলেন মোজাফফর। সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের ‘বাংলাদেশ: এ লিগ্যাসি অব ব্লাড’ বইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, জিয়াউর রহমানকে হত্যার সময় সবচেয়ে কাছে ছিলেন মেজর মোজাফফর ও লেফটেন্যান্ট মোসলেহউদ্দিন। বইয়ে বলা হয়েছে, মোজাফফর তখন কাঁপছিলেন এবং তাঁর ধারণা ছিল জিয়াকে শুধু সার্কিট হাউস থেকে তুলে নেওয়া হবে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান সাবমেশিনগান দিয়ে গুলি চালানোর পর জিয়া নিহত হন। হত্যার প্রায় এক ঘণ্টা পর মোজাফফর আবার সার্কিট হাউসে ফিরে যান। সেখানে তিনি অন্যদের সঙ্গে জিয়ার শোবার ঘরে তল্লাশি চালান এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও কাগজপত্র সংগ্রহ করেন।
বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার পর মোজাফফর পলাতক হন। মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরীর স্মৃতিকথা অনুযায়ী, ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সালের মধ্যে মোজাফফর ভারত থেকে ব্যাংককে গিয়ে অপর পলাতক মেজর এস এম খালেদের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে তাঁরা মইনুলের কাছে জিয়া হত্যার বিবরণ দেন। তাঁদের দাবি ছিল, জিয়াকে সার্কিট হাউস থেকে সেনানিবাসে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কিন্তু মতিউর রহমান গুলি চালানোর পর পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। মইনুল পরে ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে এই তথ্য জানান।
মোজাফফরের দীর্ঘ পলাতক জীবনের বেশির ভাগ অংশই অজানা। তিনি ভারতে আত্মগোপন করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করতেন। কবে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন, বনানীর বাসায় কত দিন ছিলেন এবং কাদের সহায়তায় এসব করেছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি। তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ থেকে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, জিয়ার কক্ষ থেকে কী খোঁজা হয়েছিল এবং বিদ্রোহী কর্মকর্তাদের পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে এখন পর্যন্ত মোজাফফরের নিজস্ব কোনো বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের নথি জনসমক্ষে আসেনি।


