দেশের পরিবর্তনের জন্য সর্বপ্রথম নাগরিকদের মানসিকতার রূপান্তর প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বরেণ্য অভিনেতা আফজাল হোসেন। সমাজে ছড়িয়ে পড়া সন্দেহ, অসন্তোষ ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি বিস্তৃত লেখা প্রকাশ করেন তিনি।

নিজের পর্যবেক্ষণে আফজাল হোসেন বলেন, মানুষ ইতিবাচক অর্জনে সম্মানিত অনুভব করার বদলে শুধু খারাপ সংবাদেই আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তার ভাষ্যে, আমরা নেতিবাচক খবর শুনতে ও তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় পরমানন্দ খুঁজি। পরচর্চা ও সন্দেহপ্রবণতা আমাদের যেন চাঙ্গা রাখে। সমাজের একটি বড় অংশ এখন গুরুত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যেই অশোভন আচরণ করে এবং এই ক্ষমতাকে বাহাদুরি হিসেবে গণ্য করা হয়।

অভিনেতা অভিযোগ করেন, বিশ্লেষণের কোনো ইচ্ছা না রেখে দোষারোপ করাই অনেকের নৈতিক দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। শিল্পী রুনা লায়লার সাম্প্রতিক একক সঙ্গীতানুষ্ঠানের দৃষ্টান্ত টেনে তিনি উল্লেখ করেন, শিল্পী আদৌ কণ্ঠ দেবেন নাকি রেকর্ডেড গানের সাথে ঠোঁট মেলাবেন, এমন সন্দেহও বহুজন করেছিল। যারা এরূপ প্রশ্ন তুলেছেন, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি দ্বিধাগ্রস্ত ও একই সাথে অশ্রদ্ধাবোধে পরিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহম্মদ সাদের 'রেহানা মরিয়ম নূর'-এর কান উৎসবে নির্বাচনের ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দেন। তখন অনেকেই অর্থের বিনিময়ে ছবি পাঠানোর কটাক্ষ করেছিলেন, যা তাদের হীনমন্যতা ও অসভ্যতাকেই প্রকাশ করে। আফজাল হোসেনের ভাষায়, ভাষা ও আচরণে প্রকৃত চরিত্র ফুটে বের হয়।

হিমালয় জয়ী পর্বতারোহীদের সাফল্যও যেন জনমানসে তেমন গুরুত্ব পায়নি, বরং সেটি হয়ে থেকেছে মসলাহীন এক সাধারণ সংবাদ। রুবাইয়াত হোসেনের সিনেমা 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড'-এর ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে যাওয়ার গৌরবোজ্জ্বল খবরকেও এ দেশে ম্লান হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, একটি বিশেষ পদত্যাগের ঘটনা নিয়েই মানুষ তীব্র ব্যস্ততায় দিনাতিপাত করছে, যেন এতেই জাতীয় রূপান্তর ঘটে যাবে। সবশেষে আফজাল হোসেন সুস্পষ্ট বার্তা দেন, নাগরিকেরা পরিবর্তিত না হলে রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত বদল কোনোদিন আসবে না।