সাম্প্রতিক সময়ে বৃহৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার জেরে প্রযুক্তি আসক্তি নিয়ে বিতর্ক আবারও তীব্র হয়েছে। এই বিতর্কের প্রভাব কর্মক্ষেত্রেও স্পষ্ট—কর্মীদের মনোযোগ ধরে রাখা দুরূহ হয়ে পড়ছে, তাদের নজর বারবার স্মার্টফোনের দিকে চলে যাচ্ছে। ঠিক এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সার্ভিসনাও।
প্রতিষ্ঠানটির চিফ লার্নিং অফিসার জেইনি হাওসন নিজের কর্মীদের মধ্যে একই ধরনের আচরণগত প্রবণতা লক্ষ করে একটি সমাধান নিয়ে আসেন। সার্ভিসনাও তাদের এআই–চালিত শিক্ষণ প্ল্যাটফর্মে 'মাইন্ড জিম' নামক বিশেষ একটি ব্যবস্থা চালু করেছে। এই প্ল্যাটফর্মে একটি 'পার্সোনাল প্রফেসর' কর্মীদের সংক্ষিপ্ত জ্ঞানীয় ব্যায়াম করায়, যার মূল লক্ষ্য হলো একাগ্রতা, সমালোচনামূলক চিন্তা ও মানসিক তত্পরতা বৃদ্ধি করা।
হাওসন এই উদ্যোগ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অতীতের সঙ্গে তুলনা টেনেছেন। তাঁর মতে, 'যখন মানুষ মাঠ ও খনি থেকে ডেস্কের কাজে এলো, তখন শারীরিক স্থূলতা একটি মহামারির রূপ নেয় এবং মানুষ পেশী গঠনের জন্য ব্যায়ামাগার তৈরি করে। এখন মনের জন্যও একই ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন।'
মাইন্ড জিমের একটি অংশে বিক্রয় বিভাগের কর্মীরা এআই গ্রাহকের সঙ্গে উপস্থাপনার অনুশীলন করেন। এই এআই গ্রাহক স্বাভাবিক কথোপকথন চালাতে সক্ষম এবং কর্মীদের চোখের যোগাযোগ, অপ্রয়োজনীয় শব্দ ব্যবহার ও বক্তব্য সংক্ষিপ্ত রাখার মতো বিষয়গুলো মূল্যায়ন করে স্কোর দেয়। হাওসনের দাবি, প্রায় ৭৫ শতাংশ কর্মী এই ব্যায়ামে বারবার ফিরে আসেন।
প্রশ্ন উঠতে পারে, আরও বেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কী সত্যিই প্রযুক্তি বিভ্রান্তির সমস্যার সমাধান সম্ভব? হাওসনের যুক্তি, এর উত্তর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ নেতারা কীরূপে এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করছেন তার ওপর। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এআই–কে মানবিক মিথস্ক্রিয়ার বিকল্প নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, এআই অ্যাভাটারের মাধ্যমে অনুশীলনের পর বিক্রয় কর্মীরা সহকর্মীদের সঙ্গে বাস্তব কথোপকথনে সেই দক্ষতা প্রয়োগ করেন।
হাওসন আরও বলেন, 'বর্তমান আলোচনা মূলত মানুষ কী ভুল করছে সেটাকে কেন্দ্র করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে আমাদের দেখতে হবে আমরা কি মানুষের অসাধারণ সম্ভাবনাকে জাগ্রত করার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করছি?'




