গুগল তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল জেমিনাইয়ের উন্নয়নে পুরো শক্তি ও সম্পদ কেন্দ্রীভূত করতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত ডিপমাইন্ডের প্রোটিন গবেষণা প্রকল্প আলফাফোল্ডের দল ভেঙে দিয়েছে। প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে, যা প্রথম প্রকাশ করে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলফাফোল্ড নামক এআই-চালিত প্রোগ্রামটি প্রোটিনের অ্যামিনো অ্যাসিড সিকোয়েন্স থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই থ্রিডি গঠন নিখুঁতভাবে পূর্বাভাস দিতে সক্ষম, যা প্রচলিত পদ্ধতিতে নির্ধারণ করতে বছরের পর বছর সময় লেগে যেত। বর্তমানে এই প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে ওষুধ উদ্ভাবনের গতি বাড়ানো, টিকা তৈরি এবং আলঝেইমার ও পারকিনসন্সের মতো স্নায়বিক রোগে প্রোটিনের গাঠনিক পরিবর্তন বুঝতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

গুগল ডিপমাইন্ড ২০১৮ সালে আলফাফোল্ড তৈরির কাজ শুরু করে। ২০২০ সালে এসে আলফাফোল্ড মানবজাতির ৫০ বছরের পুরনো 'প্রোটিন ফোল্ডিং সমস্যা'র চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল অ্যামিনো অ্যাসিড কীভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জটিল থ্রিডি আকার ধারণ করে এবং সেই আকৃতি কীভাবে প্রোটিনের জৈবিক ভূমিকা নির্ধারণ করে তা বের করা। এক্স-রে ও নিউক্লিয়ার ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্সের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা গত ৫০ বছরে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার প্রোটিনের গঠন শনাক্ত করতে পেরেছিলেন। আলফাফোল্ডের দল সেই আগের সব তথ্য সংগ্রহ করে নিজেদের এআই মডেলে ইনপুট হিসেবে ব্যবহার করে এবং আলফাফোল্ডকে প্রশিক্ষিত করে তোলে।

২০২১ সালে বিজ্ঞান সাময়িকী 'নেচার'-এ আলফাফোল্ডের কার্যপদ্ধতি ও মানবদেহের সম্পূর্ণ প্রোটিন সেট বা 'হিউম্যান প্রোটিওম'-এর থ্রিডি গঠন সম্পর্কিত গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। এরপর ডিপমাইন্ড 'আলফাফোল্ড প্রোটিন স্ট্রাকচার ডেটাবেইস' চালু করে, যার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো গবেষক বিনামূল্যে প্রায় ২০ কোটি প্রোটিনের কাঠামোগত পূর্বাভাস ব্যবহারের সুযোগ পান। এই প্রকল্পে যুগান্তকারী অবদানের জন্য ২০২৪ সালে যৌথভাবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার জেতেন ডিপমাইন্ডের সিইও ডেমিস হাসাবিস ও কোম্পানিটির গবেষক জন জাম্পার, যিনি প্রাথমিক পর্যায়ে স্টাফ রিসার্চ সায়েন্টিস্ট হিসেবে যোগ দিয়ে পরবর্তীতে ভিপি পদে উন্নীত হয়েছিলেন।

এ বছরের জুনে জন জাম্পার ডিপমাইন্ড ছেড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিকে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার পথ ধরে আরও কয়েকজন সহকর্মী অ্যানথ্রপিকে পাড়ি জমিয়েছেন। অন্যদিকে গুগল ডিপমাইন্ড বলেছে, তারা দলের অনেক সদস্যকে অভ্যন্তরীণভাবে নিজস্ব এআই মডেল 'জেমিনাই'কেন্দ্রিক প্রকল্পে স্থানান্তরিত করেছে। কিছু সদস্যকে অ্যালফাবেটের ওষুধ উদ্ভাবনী কোম্পানি 'আইসোমরফিক ল্যাবস'-এ পাঠানো হয়েছে, যা ডিপমাইন্ডেরই সহযোগী কোম্পানি। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ গুগলের জেমিনাই এআই মডেল উন্নয়নে সব শক্তি ও সম্পদ কেন্দ্রীয়ভাবে ঢেলে দেওয়ার কৌশলেরই অংশ। গুগল ডিপমাইন্ডের গবেষণা বিভাগের ভিপি পুশমিত কোহলি বলেছেন, “গেল নয় বছর ধরে আমাদের কৌশল ছিল বড় বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জ ঠেকানো... যেখানে প্রতিটি প্রজেক্ট নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করত। তবে এখন সেই কৌশলে পরিবর্তন এসেছে।”