ওয়ারেন বাফেট সম্প্রতি তার দানশীলতার কৌশলে বড় পরিবর্তন এনেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন ছিল তাঁর দানের প্রধান প্রাপক। কিন্তু চলতি বছরের বার্ষিক স্টক দানে তিনি সেই ফাউন্ডেশনকে বাদ দিয়েছেন। পরিবর্তে, তিনি স্টক দান করছেন তাঁর প্রথম স্ত্রীর নামে প্রতিষ্ঠিত সুসান থম্পসন বাফেট ফাউন্ডেশন এবং তাঁর সন্তানদের শেরউড, হাওয়ার্ড জি. বাফেট ও নোভো ফাউন্ডেশনে। প্রায় দুই দশকে গেটস ফাউন্ডেশন পেয়েছিল ৪৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি দান। এই ফাউন্ডেশনের সঙ্গেই তাঁর দানশীলতার পথচলা সবচেয়ে বেশি জড়িত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি বিল গেটসের জেফরি এপস্টাইনের সাথে সম্পর্ক নিয়ে পর্যালোচনার পর বাফেট এই সিদ্ধান্ত নেন। তিনি অবশ্য গেটসের প্রতি সহানুভূতিশীল থেকে বলেন যে ভুল করা মানুষের স্বভাব এবং গেটসের ভুলকে তিনি নিজের মতোই দেখেন।

বাফেট দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর সাফল্যের পেছনে ভাগ্যের ভূমিকা নিয়ে কথা বলে আসছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আটশো কোটি মানুষের মধ্যে তিনি সম্ভবত সবচেয়ে ভাগ্যবান ১০ জনের একজন। তাঁর মতে, কাঠামোগত সুবিধা যেমন শ্বেতাঙ্গ পুরুষ হয়ে জন্মানো এবং আমেরিকার মতো দেশে জন্ম নেওয়া তাঁর সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তিনি 'ওভারিয়ান লটারি' ধারণাটি ব্যবহার করে ব্যাখ্যা করেন যে জন্মের সময় পরিস্থিতি ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার চেয়ে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে।

বাফেটের বাবা একজন স্টকব্রোকার ছিলেন, যা তাঁর বিনিয়োগ জগতে প্রবেশের পথ করে দেয়। মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি প্রথম স্টক কেনেন। তিনি মনে করেন, ছোটবেলায় নিজের পছন্দের কাজে জড়িয়ে পড়াটাও ছিল দৈবক্রম। বাবা প্লাম্বর হলে তিনি কখনোই বিনিয়োগকারী হতে পারতেন না।

বর্তমানে বাফেট বিশ্বের ১০ম ধনী ব্যক্তি। বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের চেয়ারম্যান পদে থেকেও তিনি সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। গ্রেগ অ্যাবেলকে উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করেছেন। বাফেট দীর্ঘদিন ধরে দানশীলতার প্রতিশ্রুতি পালন করছেন। ২০১০ সালে গিভিং প্লেজে স্বাক্ষর করে তাঁর ৯৯ শতাংশ সম্পদ দানের অঙ্গীকার করেন। ২০২৪ সালে তিনি ঘোষণা দেন মৃত্যুর পর গেটস ফাউন্ডেশন আর তাঁর কাছ থেকে দান পাবে না। সম্প্রতি তিনি সময়সীমা এগিয়ে এনে চান তাঁর সন্তানেরা ২০৩৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁর শেয়ার বিতরণ করতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি তাঁর দানশীলতার ইতিহাসে আরেকটি নতুন অধ্যায় শুরু করলেন।