নেত্রকোনা সদর উপজেলার হাজী ফয়েজ উদ্দিন আকন্দ উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রোববার সকালে প্রধান শিক্ষকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। একই সাথে তারা বিদ্যালয়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক মো. আজহারুল হককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি মামলায় আটক করা হয়েছে, যা নিছক হয়রানি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে পুলিশ প্রধান শিক্ষককে আটক করতে বিদ্যালয়ে যায়। তিনি বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে সড়কে এলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন সরকার জানান, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে ধরা হন বলে দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, তাঁকে একটি মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সময় বহিরাগত কয়েকজন যুবক শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে এবং হামলা চালায় বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। তবে ওসি আল মামুন সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁদের উপস্থিতিতে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
প্রধান শিক্ষকের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির সকালের পরীক্ষা এবং নবম ও দশম শ্রেণির দুপুরের পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ শেষে তারা পরবর্তী পরীক্ষাও বর্জনের ঘোষণা দেয়। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার, তুরজাউন খানম, সিনথিয়া আক্তার এবং অষ্টম শ্রেণির ফাহিম মিয়াসহ কয়েকজন জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা দিয়ে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে। তারা উল্লেখ করেন, তিনি আগেও কারাভোগ শেষে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
প্রধান শিক্ষক মো. আজহারুল হক ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হাজী ফয়েজ উদ্দিন আকন্দ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক। এছাড়াও তিনি লক্ষ্মীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১৩ জন শিক্ষক এবং ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৫৫৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
ঘটনার পর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আবদুল আওয়ালকে বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন পরবর্তী পরীক্ষাগুলো দিতে পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।